রাসিক প্রশাসক পদে বুলবুলের বিকল্প দেখেন না সাবেক কাউন্সিলর ও দলীয় কর্মীরা

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে (রাসিক) নাগরিক সেবা ভেঙে পড়েছে। জন্মসনদ এবং মৃত্যুসনদ নিতেও নগরবাসীকে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। থমকে আছে উন্নয়ন কাজ। নতুন প্রকল্প তো দুরে থাক, পুরনো প্রকল্পও বন্ধ রয়েছে।

শীর্ষ পদে জনপ্রতিনিধি না থাকায় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক চান রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষ। এপদে স্থানীয় বিএনপির পাঁচনেতা আলোচনায় থাকলেও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিকল্প দেখছেন না সাবেক কাউন্সিলর, দলীয় নেতাকর্র্মীরা।

প্রসঙ্গত, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের ৬টি সিটি কর্পোরেশনে রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগের পর রাজশাহীর মানুষ আশা করেছিল, স্থানীয় একজন যোগ্য নেতাকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু এবং মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের রয়েছে। এর মধ্যে টানা ১৭ বছর মেয়র ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বর্তমানে ভূমি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

৫ বছর মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ওই ৫ বছরের প্রায় ২৭ মাস হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় কারাগার ও ফেরার ছিলেন তিনি। পুলিশ কন্সটেবল সিদ্ধার্থ হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাসহ গায়েবী মিথ্যা মামলা তাকে বরখাস্তও করা হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে তিনি মেয়রের চেয়ার ফিরেন। এছাড়া ১৭ বছরে ৪২টি হয়রানিমূলক মামলা মাথায় নিয়ে রাজনীতি করেছেন। ৮ দফা কারাবরণ করেছেন। দমন-পীড়ন সত্ত্বেও আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন অবিচল। তিনি নেতাকর্মীদের আগলে রাখেন। ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।

এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগ নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে আদালতে করা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের মামলা এখনো চলমান। এসব কারণে প্রশাসক হিসেবে রাজশাহী বিএনপির অধিকাংশ নেতাসহ তৃণমুলের প্রথম পছন্দ সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সাবেক কাউন্সিলররাও প্রশাসক হিসেবে বুলবুলকে চান।

রাসিকের ১০ এবং ১৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্বাস আলী সরদার ও মোঃ টুটুল বলেন, সাবেক মেয়র বুলবুল শুধু জনপ্রতিনিধি নন, জনগণের বন্ধুও। জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও আওয়ামী লীগ অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় হয়রানির মাধ্যমে মেয়র পদ কেড়ে নিয়েছিল। একারণে তাকে প্রশাসক না করলে বুলবুল ও নগরবাসীর প্রতি অন্যায় হবে। তারা বলেন, সাবেক মেয়র বুলবুলের সময়ে সিটি কর্পোরেশন দুর্নীতিমুক্ত ছিল। মেয়াদ শেষে তার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীীতির মামলা করতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোশিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিইএবি) রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, যুবদল নেতা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুজ্জামান বলেন, ‘নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ প্রশাসক হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিকল্প আপাতত কেউ নেই। তাকে প্রশাসক করলে নগরবাসী উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর স্নেহভাজন ও সহযোদ্ধা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অতীত অভিজ্ঞায় দ্রুত নগরবাসীর কাঙ্খিত সেবা করতে পারবেন। চলমান ও অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্প গতি পাবে। নতুন কাউকে প্রশাসক করলে প্রশাসনিক কাজ বুঝতেই দীর্ঘ সময় লাগবে। এছাড়া দলের অভ্যন্দরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাড়বে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে তিনি আনারস প্রতীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করেন বুলবুল। দায়িত্ব নিয়ে সাবেক মেয়র ও বর্তমান ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন। উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ অব্যাহত রাখায় নগবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। এ কারণে সাবেক মেয়র বুলবুলকে প্রশাসক হিসেবে চান বিএনপিরসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments