ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত সিলেট

দীর্ঘ খরার পর কয়েক দফা বৃষ্টি সিলেটের রুক্ষ প্রকৃতিকে সজিবতা দান করেছে। স্থানে স্থানে সবুজ পত্র পল্লবে সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রকৃতির অপার দান সিলেট পর্যটন এলাকা। এখানের পরতে পরতে রয়েছে সৌন্দর্য্যরে হাতছানি। শীত, বর্ষা সব মৌসুমেই সিলেটে পর্যটকদের ভিড় জমে। এবার ঈদ-উল-ফিতরের দীর্ঘ এক সপ্তাহের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত পর্যটন অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলো।

পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে সিলেট ও মৌলভীবাজারের ফাইভ স্টার হোটেল ও রিসোর্টগুলো অগ্রিম বুকিং দিয়ে রেখেছেন পর্যটকরা। পাহাড়ী ঝরণা, সবুজ প্রকৃতি ও স্ব”ছ পানির মেলবন্ধন দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা এবারও ছুটে আসবেন সিলেটে, এমনটাই আশা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের। দীর্ঘ এই ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্রীক অন্তত: ৫ কোটি টাকার বেশী টাকার ব্যবসা হতে পারে সিলেটে-এমন মন্তব্য সংস্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

অন্যদিকে, ঈদে পর্যটকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন গুর“ত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ পুলিশ ক্যা¤প স্থাপনের কথাও জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, নিরাপত্তা যাতায়ত সুবিধা সহ নানা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, সুযোগ এসেছে-বর্তমান সরকার আমলে সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করা তুলা হবে। তিনি প্রশাসনেকে পর্যটকদেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বরাবরই পছন্দের শীর্ষে হকালুকি, টাঙ্গুয়ার হাওর সিলেটের জাফলং, সাদা পাথর, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, মাধবকুন্ড, শ্রীমঙ্গল ও তাহিরপুরের শিমুলবাগান সহ নানা ষ্পট। পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি ও স্ব”ছ পানির মেলবন্ধন এই অঞ্চলকে পর্যটকদের কাছে করেছে অনন্য আকর্ষণীয়। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঈদে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন ¯পটে অন্তত: ৫ লাখের বেশী পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে।

যদিও আবহাওয়া অফিস জানায় আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টি থাকার সম্ভাবনা সিলেটে। তবে বন্যা পূর্বভাষ কেন্দ্র জানায় সহসা বন্যা কোন সম্ভাবনা নেই। এরই মধ্যে বৃষ্টির ছুয়ায় হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলের সবুজ পাতা বাতাসে হিল্লুল খেলছে। চাবাগানওলোতে হাসি ফুটেছে। সে এক চোখ জুড়ানো মন ভূলানো দৃশ্য।

এসব আবার এই অঞ্চলের পর্যটন অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করে থাকে। আশা করা হচ্ছে: দীর্ঘদিন স্থবির থাকা পর্যটন খাত আবারও চাঙা হয়ে উঠবে।

এবারের ঈদে দীর্ঘ ছুটি পাওয়ায় পরিবারের সঙ্গে একান্ত সময় কাটাতে ছুটে যাবেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে। এ কারণে সিলেট, মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের হোটেল-রিসোর্ট মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন গাইডরা জানান, ঈদ উপলক্ষে ইতোমধ্যেই সিলেটের অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টে বুকিং স¤পন্ন হয়ে গেছে। সিলেট, মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের ফাইভস্টার হোটল ও রিসোর্টের বুকিং শতভাগ শেষ হয়েছে।

এই দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে পর্যটন খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, এই ঈদে পর্যটন খাত চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এবার সিলেটে ব্যাপক পর্যটক সমাগম হবে। ইতোমধ্যেূ পর্যটন ব্যবসায়ীরা সকল প্রস্তুতি স¤পন্ন করেছেন।

সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স গ্র“পের সাবেক সভাপতি সুমাত নূরী চৌধুরী জুয়েল বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক আগমন ঘটবে এবং এতে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ইতিমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উৎপল কুমার চৌধুরী জানান, পর্যটন ¯পটগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি থাকবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments