কারাগারে এবার ঈদ উদযাপন করেছেন ১৭৮ জন ভিআইপি বন্দী। এই তালিকায় রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি ও আমলা। দেশের গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ ও দিনাজপুরসহ ১৩ টি কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৫৫ টি জেলা কারাগারে তাদের ঈদ কাটছে।
কারা অধিদফতরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত উল ফরহাদ বলেন, বিভিন্ন কারাগারে ১৭৮ জন বন্দির মধ্যে ৪৩ জন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী। বাকিরা আমলা। তাদের দুয়েকজন ছাড়া কমবেশি সবাই ডিভিশন পেয়েছেন। এই তালিকায় সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, মেয়র, পুলিশের আইজিপিসহ বিভিন্ন আমলা রয়েছেন।
তিনি বলেন, যারা ডিভিশন পেয়েছেন তাদের সবাই বিধি অনুযায়ী সুযোগ সুবিধা ও ঈদের খাবার পাবেন। তাদের কেউ কেরানীগঞ্জ, কেউ গাজীপুরে বন্দি আছেন। তবে সাংবাদিকদের গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার আমলারা বিশেষ ও হাইসিকিউরিটি কারাগারে আছেন। ১৭৮ জনই ডিভিশন পেলেও একজন এমপি ডিভিশন পাননি। গ্রেফতার ৪৩ জনকে রাখা হয়েছে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে। এই তালিকায় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, মেয়র, পুলিশের আইজিপি রয়েছেন।
কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিনিয়গ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক খাদ্য মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক বিমান মন্ত্রী ফারুক খান, সাবেক নৌ মন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ড. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তৌফিক-ই-ইলাহী, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলম।
ভিআইপি বন্দীদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) হাজী মোহাম্মদ সোহায়েল, সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা ও সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দন সরকার।
এছাড়া রয়েছেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজন কুমার সাহা, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এসএম মাইনুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মশিউর রহমান, সাবেক এডিসি জুয়েল রানা, এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান, গুলশান থানার সাবেক ওসি মো. মাজহারুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি-উত্তর) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।
ঈদের দিন এসব ব্যক্তিদের স্বজনরা তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। তবে বাসা থেকে আনা কোনো খাবার খাওয়াতে পারবেন না। ঈদের দ্বিতীয় দিন বাসা থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে আসতে পারবেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম মেনে খাবার দিতে হবে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের দিন ১৭৮ জনকে বিশেষ খাবার দেওয়া হবে। তার মধ্যে থাকবে ঈদের দিন সকালে মুড়ি, পায়েস অথবা সেমাই, দুপুরে গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, ডিম, কোমল পানীয়, সালাদ ও পান-সুপারি, যারা গরুর মাংস খাবেন না, তাদের জন্য রাখা হবে খাসির মাংস। রাতে সাদা ভাতের সঙ্গে রুই মাছ ও আলুর দম। সেই সঙ্গে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার মতো সুবিধাও। এছাড়াও তারা তাদের স্বজনদের সঙ্গে ঈদের দিন পাঁচ মিনিট ফোনে কথা বলতে পারবেন।


