অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১২০টিকে আইন আকারে সংসদে পাস করানোর লক্ষ্যে বিল উত্থাপনের বিষয়ে মোটামুটি একমত হয়েছেন সংসদের বিশেষ কমিটির সদস্যরা।
অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ে বিশেষ কমিটির গতকাল বুধবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের মুলতবি বৈঠকে এব্যাপারে কমিটিতে থাকা সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যরা মোটামুটি একমত হন।
গতকাল বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ১২০টি অধ্যাদেশ পাসের জন্য সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অধ্যাদেশগুলো নিষ্পত্তি করতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদে অন্যান্য বিল যেভাবে পাসের জন্য তোলা হয় এবং যে প্রক্রিয়ায় পাস হয়ে থাকে; এই অধ্যাদেশগুলোও একই প্রক্রিয়ায় বিল আকারে উত্থাপিত হবে।
তবে, আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে আংশিক দ্বিমত পোষণ করে বিশেষ কমিটির সদস্য ও জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ১২০টি নয়, বিশেষ কমিটির বৈঠকে এখন পর্যন্ত ১১৫টি অধ্যাদেশ পাসের বিষয়ে একমত হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। এই সংসদ গঠিত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রক্তের উপর। তাই আমরা (বিরোধীদল) জুলাই
জনআকাক্সক্ষাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। যেখানে যেখানে এই আকাক্সক্ষার পরিপন্থী বিষয় আসবে, সেখানে আমরা বিরোধিতা করব।
বিশেষ কমিটির মঙ্গলবারের প্রথম বৈঠকে ৪০টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়। আর গতকালের বৈঠকে অবশিষ্ট ৯৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটি অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা ও যথার্থতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ২ এপ্রিলের মধ্যেই সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গতকাল বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, কিছু অধ্যাদেশ হুবহু পাসের জন্য সংসদে প্রস্তাব করা হবে। কিছু অধ্যাদেশ সংশোধনী আকারে পাসের জন্য তোলা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো স্ব স্ব অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে পাসের জন্য প্রস্তাব করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু অধ্যাদেশ হয়তো এখন পাস হবে না, সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে। সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা থাকলে পরবর্তীতেও পাসের জন্য সম্পূর্ণ নতুন করে বিল আকারে সংসদে আনা যাবে, তাতে সমস্যা হবে না।
বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান সবকিছুর ঊর্ধ্বে। গণভোট বা যে কোনো কিছুর বিষয়েই সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ। কোনো কোনো অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলে সেটি সংসদের ফ্লোরে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে।
সংবিধান অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদকে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো এখনও গঠিত না হওয়ায় এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রথম বৈঠকে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি করা হয়েছে। এরপর ১৫ মার্চ সংসদের দ্বিতীয় বৈঠকে আইনমন্ত্রী অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনার জন্য এই বিশেষ কমিটিতে পাঠানোর এবং কমিটিকে ২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তাব করলে তা গৃহীত হয়।
কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গতকালের মুলতবি বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. ওসমান ফারুক, এ.এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান এবং জি,এম নজরুল ইসলাম।



