যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ এ অংশগ্রহণের জন্য ওয়াশিংটন, ডিসিতে দুই দিনের সরকারি সফরে রয়েছেন।
এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চল্লিশের বেশি ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশগ্রহণ করেছেন। যা বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণ ও সম্ভাবনা উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে সম্মেলনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন এবং উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের প্রতি যত্ন নেওয়া ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তন ও সমৃদ্ধি আনয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। ডা. জুবাইদা রহমানের সহকারী হিসেবে অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিনিয়র চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং নারী উদ্যোক্তা মেহনাজ মান্নান অংশ নেন।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, ডেপুটি চিফ অব মিশন ডি. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমান এবং তার প্রতিনিধিদল প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন।
গতকল বুধবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ওয়ার্কিং সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের উন্নয়ন বিষয়ে বৈশ্বিক অঙ্গীকারে বিশ্বনেতা ও অংশীদারদের একত্রিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, আমি ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি সারা বিশ্ব থেকে আমাদের এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে একত্রিত করেছেন যা প্রতিটি জাতিকে স্পর্শ করে—আমাদের শিশুদের প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনা। আমরা উপলব্ধি করি যে, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের জীবনেই লেখা থাকে। আজ আমরা যে যত্ন প্রদান করি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তা-ই আগামী দিনে তাদের গড়া জাতিকে রূপ দেবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন।
আমাদের সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারি খাতের ভিত্তি স্থাপন করে লক্ষ লক্ষ নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো প্রমাণ করে যে, যখন নারীরা ক্ষমতায়িত হন, তখন পরিবারগুলো শক্তিশালী হয় এবং শিশুরা সমৃদ্ধি লাভ করে।
আমরা অংশীদারত্বের গুরুত্বও স্বীকার করি। বেসরকারি খাত এবং আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর প্রসারিত করতে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন করতে এবং সবার জন্য শিক্ষার মান উন্নত করতে চাই।



