চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক-কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন থেকে পিছিয়ে পড়ছে এনবিআর।
এনবিআরের হালনাগাদ তথ্য সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকার শুল্ক-কর আদায়ের লক্ষ্য ছিল এনবিআরের। এ সময়ে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা।
নতুন সরকারকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে চার মাসে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। সংশোধিত বাজেট অনুসারে, চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ নানা কারণে এ বছর ব্যবসা-বাণিজ্যে শ্লথগতি ছিল। ভবিষ্যতেও এই সংকট চলমান থাকার শঙ্কা আছে। করের আওতা বৃদ্ধি, কর পরিপালন নিশ্চিতকরণ, কর ফাঁকি প্রতিরোধ ও ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব পুনরুদ্ধার করার কাজ করছে এনবিআর।
রাজস্ব বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত আছে। সংস্থাটি ৪৭০ কোটি টাকার ঋণের শর্ত হিসেবে প্রতিবছর জিডিপির আধা শতাংশের বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের শর্ত দিয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও আয়কর এই তিন খাতের মধ্যে কোনো খাতেই লক্ষ্য অর্জন হয়নি। গত জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এনবিআর সব মিলিয়ে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা আদায় করেছে। লক্ষ্য ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। আট মাসে ঘাটতি ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। তবে শুল্ক-কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশ।
আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। আট মাসে ঘাটতি হয় ৩৩ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। এ খাতে আদায়ের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। এ সময়ে আদায় হয়েছে ৮৫ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। আমদানি খাতে ১৭ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা ঘাটতি হয়।
এ সময় এ খাতে ৮৯ হাজার ৭৮ কোটি টাকার লক্ষ্যের বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭১ হাজার ৯১২ কোটি টাকা। গত জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে ভ্যাট বা মূসক আদায় হয়েছে ৯৭ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। এ সময়ে এ খাতের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।



