৪০ দিনের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে আজ

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা প্রায় ৪০ দিনের ছুটি শেষে আজ রবিবার খুলছে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুলমুখী শিক্ষার্থীদের পদচিহ্নে মুখর হয়ে উঠবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংশোধিত বার্ষিক ছুটির সূচি অনুযায়ী, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান ও ঈদের ছুটি শুরু হয় এবং ২৬ মার্চ পর্যন্ত এ ছুটি নির্ধারিত ছিল।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকার ৯ মার্চ থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ঈদের ছুটি কার্যকর করা হয়। ছুটি শেষে আজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম আবার শুরু হবে।

এদিকে পবিত্র রমজান মাসজুড়ে বিদ্যালয়ে ছুটি থাকায় শিখন ঘাটতি পূরণে আজ ক্লাস শুরুর পর পরবর্তী ১০টি শনিবার (সাপ্তাহিক ছুটির দিন) দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান চলবে। অর্থাৎ আগামী ৪ এপ্রিল, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলবে ক্লাস।

গাছ লাগানো-পরিচর্যার ওপর বার্ষিক পরীক্ষায় নম্বর পাবে শিক্ষার্থীরা: স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার কাজ দেওয়া হবে। তারা সরকারের দেওয়া গাছের চারা লাগাবে এবং পরিচর্যা করবে। গাছের বৃদ্ধি ও পরিচর্যার ধরন পর্যবেক্ষণ করবেন শিক্ষকরা।

বার্ষিক পরীক্ষার যে নম্বরপত্র (রিপোর্ট কার্ড) দেওয়া হবে, তাতে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার ওপরও নম্বর দেওয়া হবে। যার গাছ সঠিক পরিচর্যায় বেড়ে উঠবে, সে বেশি নম্বর পাবে। বিএনপি সরকারের ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। গত ২৪ মার্চ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক

মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হবে। প্রতিটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিজ বাড়ি, স্কুলের মাঠ, খেলার জায়গা এবং আশপাশের খালি জমি ব্যবহার করে গাছ রোপণ করবে।

শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা গাছের পরিচর্যা শিখবে। এরপর প্রতিটি শিশুকে তার গাছের পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়া হবে। গাছের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করবেন শিক্ষকরা। বার্ষিক পরীক্ষার রিপোর্ট কার্ডে পরিবেশবিষয়ক মূল্যায়ন অংশে গাছ লাগানো ও পরিচর্যার ওপর নম্বর দেওয়া হবে।

পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে, স্থানীয় বন বিভাগ ও কৃষি অফিস থেকে গাছের চারা সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে সম্পৃক্ত করে গাছ লাগানোর জায়গা নির্ধারণ করা হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শিগগির মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ বিষয়ক নির্দেশনা জারি করা হবে।

পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা বছরে অন্তত ১ কোটি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করবে।

এতে পরিবেশ ও জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি হবে। গণমাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। এতে তারা আরও উৎসাহিত হবেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বি এম আব্দুল হান্নান বলেন, ‘১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিষয়টিকে অগ্রাধিকার-ভিত্তিতে রাখা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শিগগির প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হবে। একটি শিশু, একটি গাছ কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাউশি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

ডেঙ্গু ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা: রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রাজিবুল আলমের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা পানি, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, আশপাশে জমে থাকা বৃষ্টির পানি এবং যত্রতত্র ফেলে রাখা আবর্জনার কারণে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র বাড়ছে।

এতে আরও বলা হয়, মাহে রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তাই সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঈদের ছুটি শেষে কার্যক্রম শুরুর আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরসহ (মাউশি) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

পাঁচ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মশক নিধন’ অভিযান শুরু ঢাকা উত্তর সিটির: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-ডিএনসিসির আওতাধীন ৫৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

ঈদের দীর্ঘ ছুটি পরবর্তী সময়ে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন ভবন ও আঙিনায় এডিস মশার প্রজনন ও বংশবিস্তারের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে ‘ক্লিন স্কুল, নো মস্কিউটো’ শিরোনামে এ কার্যক্রম শুরু করল ডিএনসিসি।

শনিবার সকালে ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এ বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “সামনে বর্ষা মৌসুম। এ সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে, তাই আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাসগুলো খুলছে।

এসব ক্যাম্পাসে যেন এডিস মশার প্রজনন না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মশার বিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমরা একটি বাসযোগ্য, মশামুক্ত ও দুর্গন্ধমুক্ত শহর গড়ে তুলতে চাই।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments