মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবের মধ্যেই দেশে জ্বালানি তেলের আমদানি ও ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও বাজারে সরবরাহ ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে। ঘাটতির কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তিও কমছে না। জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের ত্রুটির ফলে মজুতদারিও হচ্ছে না বন্ধ।
জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে মোট ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫০ লাখ ৫০ হাজার টন।
আগের বছরের চেয়ে এ সময়কালে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তবে এ সময়ে তেল কিনতে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৪২০ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি। অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা।
সরবরাহ ও ব্যয় বাড়লেও জ্বালানি তেলের সংকট দূর হচ্ছে না। পেট্রোল পাম্পগুলোতে মার্চজুড়ে থাকা অপেক্ষমান গাড়ির সারি এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে। বিক্রি বন্ধ থাকা এবং মারধরের ঘটনাও ঘটেছে অনেক ফিলিং স্টেশনে। এমন প্রেক্ষাপটে ভোক্তা এবং বিশেষজ্ঞদের মত, সমস্যা মূলত আমদানিতে নয়, বরং বিতরণ ব্যবস্থাপনায়। মার্চে আমদানি কমলেও বিতরণে সংকট হওয়ার কথা ছিল না।
আগের মাসগুলোতে আমদানি বেশি হওয়ায় এপ্রিলেও তেমন ঘাটতি হতো না। কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে তেলে সরবরাহে নিয়োজিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি পরিস্থিতি সামলাতে পারেনি।
এই না পারার কারণ- প্রথমত দীর্ঘদিন ধরে চলা ও নতুন করে তৈরি হওয়া তেল চুরির চক্র এবং দ্বিতীয়ত প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব।
বিপিসির তথ্য মতে, সংকট শুরুর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫ হাজার টন ডিজেল ছাড় করা হয়, যা স্বাভাবিক চাহিদা- ১২-১৩ হাজার টনের প্রায় দ্বিগুণ।
এক সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টন জ্বালানি সরবরাহ করা হয়, যা স্বাভাবিক হিসাবে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদার সমান। এ ধরনের অস্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ভুল ও অদক্ষতার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, অতিরিক্ত সরবরাহের বড় একটি অংশ অবৈধভাবে মজুত করা হতে পারে। সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশায় অনেক ডিলার ও পাম্প মালিক জ্বালানি মজুত করেছেন। দাম না বাড়ায় তা মজুত তেল ছাড়ছেন না। আবার সরকার দৈনিক যে অবৈধভাবে মজুত হওয়া তেল উদ্ধার করছে তাও যথেষ্ট নয়।


