অস্ত্র হাতে রাতভর পুঠিয়ার সাবেক মেয়রের খোঁজে এমপির অনুসারীরা

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পুঠিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আল মামুন খানকে অস্ত্র হাতে রাতভর খুঁজেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের অনুসারীরা।

গত বুধবার রাতে আল মামুনের ফিলিং স্টেশন, শ্বশুরবাড়ি, ভাড়া বাড়ি ও গোলঘরে হানা দিয়েছেন অস্ত্রধারীরা। তারা আল মামুনকে না পেয়ে ভাঙচুর এবং ফিলিং স্টেশনের টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক মেয়র আল মামুন খানের দাবি, ‘এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডলের ছেলে ব্যারিস্টার আবু বক্কর সিদ্দিক রাজনের নির্দেশে তাকে অস্ত্র হাতে খুঁজছে ক্যাডাররা।’ তবে ব্যারিস্টার রাজন দাবি করেছেন, তিনি এসবের সঙ্গে যুক্ত নন।’ উল্লেখ্য, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির এমপি ব্যারিস্টার রাজনের বাবা নজরুল ইসলাম মন্ডল। ভোটের আগে সাবেক মেয়র মামুন তার পক্ষে ছিলেন না।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতের ঘটনার সূত্রপাত এমপির অনুসারী সেলিম সরকার রাজশাহী শহরে মারধরের শিকার হওয়া নিয়ে। ওইদিন দুপুরে রাজশাহী শহরের বোয়ালিয়া থানার ভদ্রা এলাকায় অজ্ঞাত কয়েক ব্যক্তি সেলিম সরকারকে মারধর করে।

এরআগে পেঁয়াজ চুরির অভিযোগে সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন ঝলমলিয়ার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলী। ওই মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে রাজশাহী আসেন সেলিম সরকার।

সূত্র জানায়, সেলিম সরকারের সহোদর বাক্কার সরকার পুঠিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। তবে সেলিম সরকার বিএনপির স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডলের ঘনিষ্ঠ। সেলিমের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদি, বিএনপি নেতা সৈয়দ আলীর ছেলে মো. মারুফ জানান, ‘তাদের ৩৫ কাঠা জমির পেঁয়াজ কেটে নিয়েছেন সেলিম সরকার। ওই মামলায় হাজিরা দিতে শহরে গিয়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন সেলিম। এখন বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে তাদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।

বুধবার রাতে প্রথমে তাদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। কারণ তিনি (মারুফ) সাবেক মেয়র মামুন খানের অনুসারী। তাই মামুন খানের শ্বশুরবাড়ি ও গোলঘরেও হামলা চালানো হয়েছে। রাজবাড়ি বাজারের ফারুক, রুবেল, ভুট্টু ও ঢাকাপাড়ার বাবুলসহ প্রায় ৫০ জন মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়ে হামলা চালায়।

সাবেক মেয়র মামুন খান আরও বলেন, সেলিম সরকার শহরে গিয়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। সেই দায় চাপানো হয়েছে আমাদের ওপর। এর দায় তো আমার না। আমি সহিংস রাজনীতি করি না।

তারা রাতে প্রথমে মারুফের বাড়ি ভাঙচুর করেছে। এরপর রাত ১১টার দিকে কাঁঠালবাড়িয়া এলাকায় আমার ফিলিং স্টেশনে গিয়েছে আমাকে খুঁজতে। তখন ভুট্টু ও রুবেলের হাতে পিস্তল ছিল। সেখানে আমাকে না পেয়ে ক্যাশিয়ার অলকের মাথায় পিস্তল এবং আরেক ক্যাশিয়ার মেরাজুলের গলায় ছুরি ধরে তারা ফিলিং স্টেশন থেকে ১ লাখ ২ হাজার টাকা লুট করেছে।

পরে তারা শেরপাড়ায় আমার শ্বশুর আব্দুর রশিদের বাড়ি গিয়ে ভাঙচুর চালায়। ওই এলাকায় আমি ভাড়া থাকি। আমাকে খুঁজতে তারা অস্ত্র হাতে ওই বাড়িও গিয়েছে। পরে গন্ডগোহালি এলাকায় আমার গোলঘরে যায়। সেখানেও আমাকে না পেয়ে গোলঘরটি ভাঙচুর করে আসে।

তিনি দাবি করেন, পূর্বশত্রুতার জেরধরে এমপিপূত্র ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজনের নির্দেশে রাতভর তাণ্ডব চালানো হয়েছে। তবে পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক বলে অভিযোগ করেননি।

তবে ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামুনের লোকজনই রাজশাহী শহরে সেলিম সরকারকে মারধর করেছে। এ নিয়ে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা হয়েছে। কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের সঙ্গে মামুন ও তার অনুসারী মারুফের যোগসূত্র আছে। কিন্তু তাদের বাড়িঘরে হামলার ব্যাপারে আমার সম্পৃক্ততা নেই। আমার কোনো বক্তব্যও নেই।’

পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সাবেক মেয়রের শ্বশুরবাড়িতে হামলার ঘটনার ব্যাপারে জানি। ফিলিং স্টেশনে হামলার সত্যতা পাইনি। অন্য কোথাও হামলার খবর জানি না। সাবেক মেয়রের স্ত্রী ফোনে যোগাযোগ করেছেন। তারা চাইলে মামলা করতে পারেন বলে জানিয়েছি, তবে তারা মামলা করেননি।’

রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, ভদ্রা মোড়ে সেলিম সরকারকে মারধরের ঘটনায় একজন ধরা পড়েছে। পরে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজশাহী শহরেই তাদের বাড়ি। তবে ওই ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী সেলিম সরকার। গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments