পূর্বের মারামারি ও মাদকের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করেই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে (২৮) তার প্রতিপক্ষরা চাপাতি দিয়ে নৃশংস কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করেছে। তার পূর্ব পরিচিত প্রতিপক্ষরা তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. মুন্না (২৪), আকতার হোসেন (৪৫), মিরাজ ফকির (২২) ও নয়ন ওরফে খোকন (২৪)।
তাদের ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার ও একটি মোটরসাইকেল।
একই ঘটনায় শুক্রবার রাতে মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিং এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তারা হলেন আসাদুল ইসলাম (২০) ও মো. শাওন (২৮)।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকার আসাদুলকে কুপিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রাখে আসামিরা। হত্যা করার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই ঘটনার চার দিন আগে ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বটতলায় কিশোর গ্যাং এলেক্স গ্রæপের দলনেতা এলেক্স ইমনকে একই কায়দায় চাপাতি দিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে।
গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, এই হত্যাকান্ড হওয়ার পর আমরা প্রথমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করি।
মোহাম্মদপুর ও আশাপাশের এলাকায় অভিযান চালাই। পরে কেরানীগঞ্জ থেকে এই হত্যাকান্ডের মূল হোতাসহ চারজনকে আটক করি। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আলামত হিসেবে একটি মোটরসাইকেল ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার জব্দ করা হয়।
হত্যাকান্ডের কারণ জানতে চাইলে ডিসি ইবনে মিজান বলেন, নিহত আসাদুল ও গ্রেপ্তারকৃত আকতারের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। যার প্রেক্ষিতে আসাদুলকে আসামীকে করে একটি মামলা করে আকতার। সেই মামলার আসাদুল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় এবং জেলেও যায়। কিছুদিন আগে আসাদুল জামিনে বের হয়ে আসে।
এছাড়া আকতার ও আসাদুলের মধ্যে মাদক কারবারি নিয়ে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত একটি বিরোধও ছিলো। এই দুইটি কারণে আকতার প্রতিশোধ নিতে আসাদুলকে তারই বন্ধুদের সহায়তায় মধ্যরাতে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে এবং ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বাইরেও আমরা আরো বেশ কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যহত রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত এবং নিহতের নামে একাধিক মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত নিহত আসাদুলের নামে ৬টি মামলা পেয়েছি। এর মধ্যে ৪টি মাদক মামলা, একটি অন্য ধারার মামলা, অন্যটি দ্রæত বিচার আইনের মামলা। গ্রেপ্তারকৃত মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইয়ের ৭টি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি ও নয়নের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা পেয়েছি। আকতারের বিরুদ্ধে আমরা এখনো কোনো মামলা পাইনি।
মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, তেজগাঁও ডিভিশনের ছয়টি থানার মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা বড়। এখানে প্রতিদিনই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রায়েরবাজার, বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান-এসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান চলে এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়।


