রংপুরের পীরগাছা উপজেলার নাগদাহ এলাকায় হেযবুত তাওহীদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড, প্রতারণা এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় পীরগাছার নাগদাহ এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত বিচার ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এলাকার বাসিন্দা ও হেযবুত তাওহীদের করা মামলার এক নম্বর আসামি নুর আলম। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পীরগাছা থানার পারুল ইউনিয়নের সিদামহাট এলাকায় হেযবুত তাওহীদের সদস্য কুদ্দুস শামীমের বাড়িতে একটি ‘ইসলাম বিরোধী’ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে কয়েকজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি খালি হাতে তাদের বুঝাতে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে অন্তত ১৫ জনকে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। আহতদের মধ্যে ঈমান আলী ও বদি নামের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
ঘটনার পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সমঝোতার প্রস্তাব আসে বলে জানান বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত রেখে উভয়পক্ষ সমঝোতায় রাজি হয় এবং এ লক্ষ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। কিন্তু পরে হেযবুত তাওহীদের পক্ষ থেকে সমঝোতা থেকে সরে গিয়ে উল্টো চারটি মামলা দায়ের করা হয়।
নুর আলম বলেন, আমাদের করা দুটি মামলা এখনও থানায় কার্যকর হয়নি, অথচ আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আদালতে জামিন নিতে গেলেও হামলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, হেযবুত তাওহীদের কিছু মতাদর্শ ও কর্মকাণ্ড ইসলামবিরোধী এবং সামাজিকভাবে বিভ্রান্তিকর। এসব বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান বক্তারা।
এসময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মুক্তার হোসেন ও ইসমাইল হোসেন ইমন বক্তব্য রাখেন। তারা অবিলম্বে নাগদাহ এলাকার ৬০-৬২ জন নিরীহ মানুষের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণার বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, দ্রুত সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুরে ‘ন্যায়বিচার ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টা অভিযোগ তুলে ধরেন হেযবুত তওহীদের বিভাগীয় সভাপতি ও ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস শামীম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, গুজব রটিয়ে হেযবুত তাওহীদ সদস্যদের ৮টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় এক বছর পেরিয়েও দৃশ্যমান আইনি অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বাস্তু অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।


