মাড়াইকলের মালিকরা চাহিদামতো জ্বালনি তেল সংগ্রহ করতে পারছে না। এ কারণে তাঁরা কৃষকদের চাহিদামতো ধান মাড়াইয়ের কলগুলো চালাতে পারছেন না। ফলে যেসব জমির ফসল কাটা হয়েছে সেগুলো থেকে ধান সংগ্রহ করতে পারছেন না কৃষকরা।

এছাড়া জ্বালানি তেলের সংকটের অ্যাসকেভেটরগুলো (ভেকু) কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় বসে থেকে কাটাচ্ছে। চালকরা বায়না গ্রহণ করেও সময়মতো পুকুরসহ নানা খননকাজ করতে পারছে না।
গত চার দিন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
নান্দাইল উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা হলে উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ২২ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে নিচু জমির ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে।
জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে মাড়াইকলগুলো নিরবিচ্ছিন্নভাবে না চলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা হয়েছে। মাড়াইকল মালিকরা যাতে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারেন সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে নান্দাইল উপজেলার বেশকয়েকটি বিলে থাকা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে আরও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় নিচু জমির ধান কেটে ফেলছেন কৃষকেরা।
উপজেলার ঝালুয়া গ্রামের আবদুল হেলিম (৫৫) নামে একজন কৃষক জানান, গজারিয়া বিলে থাকা তাঁর কিছু ধানি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কিছু ধান রক্ষা করতে পেরেছেন। জালানি সংকটের কারণে মাড়াইকল এখন সহজলভ্য নয়। তিনি অনেক চেষ্টার পর একটি মাড়াইকল যোগাড় করতে পেরেছেন। এখন কর্তিত ধান বেশি দাম দিয়ে মাড়াই করাচ্ছেন।
নান্দাইলের তসরা গ্রামের মো. আজিজুল (৪৮) জানান, তাঁর একটি মাড়াইলকল আছে। সেটি সারাদিন চালাতে অন্তত আট থেকে দশ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাম্পে গেলে একজনকে মাত্র দুই লিটার ডিজেল দেওয়া হয়। মাড়াইকল চালাতে সহায়ক হিসেবে চারজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
চারজনের হাজিরা চার হাজার টাকার কাছাকাছি। দুই লিটার জ্বালানি তেল দিয়ে মাড়াইকলটি আমি কতক্ষণ চালাতে পারব। এতে কৃষকরা কতখানি উপকৃত হবে। আর আমার পোষাবে কেমনে। তাই স্থানীয় কালেঙ্গা বাজার থেকে বেশি দাম দিয়ে ১০ লিটার ডিজেল কিনেছেন।
আমিনুল হক নামে এক কৃষক জানান, ধান কাটার পর ভেবেছিলেন রাস্তার পাশেই মাড়াই করবেন। কিন্তু সময়মতো মাড়াইকল পাওয়া যায়নি। তিনি বাড়ির কাছে একটি মাড়াই কলের খোঁজ পেয়েছেন। তাই ধানের আঁটিগুলো গাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।
অ্যাসকেভটর চালক রুবেল জানান, তিনি নান্দাইলের খামারগাঁও গ্রামে মৎস্য খামারের পুকুর কাটতে এসেছিলেন। তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় গত তিনদিন খননকাজ বন্ধ রয়েছে। চালক জানান, তিনি এখন নানা জায়গায় জ্বালানি তেলের খোঁজ করছেন। আগে প্রতি ঘন্টায় ১২০০ টাকা নিতেন এখন ১৪০০ টাকার নিচে পোষাবে না বলে জানান।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত ইত্তেফাককে বলেন, নান্দাইলে পরিবশেকদের কাছে পর্যাপ্ত ডিজেল রয়েছে। ধান মাড়াইকলের চালকরা ডিজেল না পেলে আমাকে জানাবেন।



