জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে তাপপ্রবাহসহ নানা দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব নারীদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে। বিশেষ করে তাপপ্রবাহের সময় নারীরা গৃহস্থালি কাজ ও রান্নার কারণে অতিরিক্ত তাপের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উল্লেখিত বিষয় বিবেচনায় মঙ্গলবার নোয়াখালীর দ্বীপ হাতিয়ায় “মর্যাদার সাথে সহনশীলতা” শীর্ষক এক দক্ষতা উন্নয়ন সভা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তাপদাহ ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষার জন্য করণীয় সম্পর্কে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে তাপপ্রবাহ থেকে সুরক্ষার জন্য হাতপাখা, গামছা এবং জিবিভি রেফারেল পথওয়ে সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া পল্লী মাতৃকেন্দ্রগুলোকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ১৫টি আরএমসি’র সভানেত্রীদের উপকরণ হস্তান্তর করা হয়।
দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালিত পল্লী মাতৃকেন্দ্রের ১০০ জন সদস্য ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের সহায়তায় পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক-প্রান ও একশনএইড বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড. এম. মিজানুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক (কার্যক্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা শাখা) মোহাম্মদ আবদুর রহমান এবং ইউএনএফপিএর জিবিভি ইন ইমার্জেন্সি অফিসার সামসাদ খান। কর্মসূচি পরিচালনা করেন প্রান-এর কর্মসূচি সমন্বয়কারী উম্মে সালমা পপি।
বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনি উপকূলীয় এলাকা হাতিয়াতেও তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ছে। এতে নারীরা দ্বিগুণ ঝুঁকিতে পড়ছেন—একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি, অন্যদিকে সহিংসতার আশঙ্কা। এ পরিস্থিতিতে নারীদের সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর সেবা কাঠামো গড়ে তোলার উপর জোর দেন।
তারা আরও বলেন, তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত বিশ্রাম, হালকা ও আরামদায়ক পোশাক ব্যবহার এবং কাজের সময়সূচি সামঞ্জস্য করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জিবিভি রেফারেল পথওয়ে সম্পর্কে ধারণা থাকা এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত পল্লী মাতৃকেন্দ্রগুলোকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ১৫টি আরএমসির সভানেত্রীদের মধ্যে ১টি করে
হোয়াইটবোর্ড, ২টি করে বিছানা, রেজিস্টার খাতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্টেশনারি উপকরণ হস্তান্তর করা হয়। আয়োজকরা জানান, এসব সহায়ক উপকরণ পল্লী মাতৃকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে এবং নারীদের ক্ষমতায়ন ও সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


