নগরিতে সরকারি সিটি কলেজে দেয়ালের গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিনের বিভিন্ন্ সময় অন্তত দুদফা এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে উভয়পক্ষের ১৫/২০ আহত হয়েছে বলে উভয় পক্ষের সূত্র থেকে জানান হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম জানান, সামি মো. আলাউদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার ফেটে যাওয়া মাথায় সেলাই দেয়া হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যদের সাথে সে বাসায় চরে যায়।
আশেপাশের ব্যবসায়ী-দোকানদাররা সাংবাদিকদের জানান, সংঘর্ষ ঘটে সকালে এক দফা। বিকালে লাঠিশোটা, ধারাল অস্ত্র নিয়ে আবারো উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষকারীরা বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ফলে সিটি কলেজের নির্ধারিত ক্লাশ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। অবশ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনুষ্ঠানরত ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ এবং মাস্টার্সের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কলেজ সূত্র জানায় সিটি কলেজের ভবনের দেয়ালে একটি গ্রাফিতি রয়েছে, যার নিচে লেখা ছিল ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। গত সোমবার রাতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহŸায়ক আবদুলাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে গ্রাফিতি থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেয়। এর পরিবর্তে ওপরে লিখে দেয় ‘গুপ্ত’। ফলে গতকাল কলেজে প্রচন্ড বাক্-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, গ্রাফিতির ওপর একটি শব্দ মুছে দিয়ে আরেকটি শব্দ লেখা নিয়ে দুটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সকালে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ কলেজ প্রাঙ্গনে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুর ১২টার পর কলেজের নিজস্ব ক্লাশ এবং পরীক্ষা সমূহ স্থগিত করা হয়।
কলেজের একটি প্রশাসনিক সূত্র জানায়, গ্রাফিতির নিচে লেখা একটি বাক্য থেকে ‘ছাত্র’ মুছে ‘গুপ্ত’ লিখে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে বিতণ্ডার জেরে তাদের সাথে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। বিকালে উভয়পক্ষ আবারো সংঘর্ষে জড়ায়।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আফতাব উদ্দিন জানান, কলেজের আশেপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাটির যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।


