রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা না করতে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত মো:এনামুল হক উপজেলার ভাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। ইতোমধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নীতি ও আদর্শ পরিপন্হী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাংনী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি গ্রামের ভুক্তভোগী নারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোটের জন্য কাজ করেন। সেসময় বিএনপি নেতার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ওই নারীকে দলের পক্ষে ভোটের মাঠে কাজ করার পুরস্কার হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এনামুল হক।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ঈদের পরেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে এমন কথা বলে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১২টার সময় বাড়িতে নাম্বার নিতে আসে এনামুল। বাড়িতে লোকজন না থাকার সুবাদে আমাকে জড়িয়ে ধরে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করে। আমি অনেক কষ্টে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে রক্ষা করেছি। এ ঘটনা জানাজানি হলে সে বলতেছে তার বিচার কেউ করতে পারবে না। আমরা গরিব মানুষ। আমি ন্যায্য বিচার চাই।
এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা এনামুল হক। তার দাবি, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন ওই নারী।কি কারণে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে- এ প্রশ্নে কোনো উত্তর দিতে পারেনি বিএনপির এই নেতা।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নীতি ও আদর্শ পরিপন্হী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এনামুল হকের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের কার্যক্রম থেকে সাময়িক ভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুই সদস্য তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- ৪নং ভাংগী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম রব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোতাহারুল ইসলাম নিক্সন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


