হত্যাচেষ্টা মামলায় ফের ৩ দিনের রিমান্ডে আফজাল নাছের

জুলাই আন্দোলনের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাসকে ‘হত্যাচেষ্টার’ মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছেরকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই অনুপ কুমার দাস জানান।

এর আগে হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ চার মামলায় কয়েক দফায় ৩৮ দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আফজাল নাছেরকে।

২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন আফজাল নাছের। ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে ২৯ মার্চ রাতে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন জুলাই আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় সেদিনই আফজাল নাছেরের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

এরপর বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আরো চার দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। গত ১৭ ও ২০ এপ্রিল দেলোয়ার হত্যা মামলায় আবার তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয় তার।

এরপর জুলাই আন্দোলনে উত্তরা এলাকায় মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় ২৩ এপ্রিল চার দিন, ২৭ এপ্রিল দুই দিন এবং ২৯ এপ্রিল তিন দিন এবং ২ মে আরও তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। সর্বশেষ ৫ মে অনিক হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল।

রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে আরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই আবদুল হক। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।’ মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে আন্দোলনকারীরা মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে এলে, তাদের লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা গুলি চালায়।

এতে আহত হন অনিক। তাকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পর ৩১ জুলাই কিছুটা সুস্থ হলে হাসপাতাল ছাড়েন অনিক। ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন তিনি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments