ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্তে ‘কথিত বাংলাদেশী’ বলে ১০০ থেকে ২০০ জনকে জড়ো করা হয়েছে। গত রবিবার থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে তাদেরকে আনা হয়েছে। বলা হচ্ছে, সুযোগ বুঝে তাদেরকে বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) পুশইন করে দিবে বাংলাদেশে। এজন্য তাদেরকে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।
এসব তথ্য ভারতীয় ইংরেজী গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত হয়েছে। হাকিমপুর সীমান্তে বাংলাদেশী আখ্যা দিয়ে অন্তত ১০০ থেকে ২০০ জন জড়ো করার ছবিও প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। যে কোন সময় সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার গেট খুলে ভারতের নোম্যান্স ল্যান্ডে ছেড়ে দিয়ে বলা হবে, ‘আগে সে বাড়ো, পিছে আজা তো গুলি কার দো।’ অন্ধকারের মধ্যেই দে দৌড়। এরপর বিজিবি বা বাংলাদেশের গ্রামবাসী তাদেরকে আটক করে থানায় দিবে।

এভাবেই ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রায় ২২শ নারী-পুরুষ-শিশুকে পুশইন করে বিএসএফ। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা রয়েছে। এমনকি বিএসএফ ভারতীয় নাগরিকদেরও পুশইন করেছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে ‘ডিটেল্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
এরপরই রাজ্যের সীমান্ত জেলাগুলিতে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবির খোলার তোড়জোড় শুরু হতেই উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে বাংলাদেশিদের ফিরে যাওয়ার এক নতুন হিড়িক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোমবার থেকে হাকিমপুর চেকপোস্টে অন্তত ১০০ থেকে ২০০ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরার জন্য জড়ো হয়েছেন বলে সীমান্ত সূত্রের খবর।
হাকিমপুর সীমান্তে জড়ো ব্যক্তিদের পরিচয় ‘বাংলাদেশী’ বলা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তার রিপোর্টে বলেছে, ‘চারজন ব্যক্তি, যারা কেরালায় শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে দাবি করেন, তারাও বাংলাদেশের পথে রওনা হয়েছেন। ৩০ বছর বয়সী ফাহিম মালিদা জানান, তারা আট মাসেরও বেশি সময় আগে সীমান্ত পার হয়েছেন। ‘‘বাংলাদেশের এক দালাল সবকিছুর ব্যবস্থা করেছিল। কুষ্টিয়া থেকে আমরা দুপুর ১২টার দিকে একটি শুকনো নদী পার হয়ে জলঙ্গি এলাকা দিয়ে মুর্শিদাবাদে প্রবেশ করি; আমাদের বলা হয়েছিল যে ওই সময়ে বিএসএফ-এর গার্ড বদল হবে।” এরপর তাদের বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকিয়ে দেয়া হবে।



