ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর নির্ধারিত প্রদর্শনী শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ইসলামী ও কওমি ধারার কয়েকটি সংগঠন সিনেমা প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক কর্মী ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা এটিকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা হিসেবে দেখছেন।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শনিবার বিকেলে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। তবে কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ প্রদর্শনী নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চলতে থাকে।
বিশেষ করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেন।
বিরোধিতাকারীরা দাবি করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের আয়োজন বন্ধ করা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়। পরবর্তীতে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা এবং ভেন্যু কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রত্যাহারের কারণে আয়োজকরা প্রদর্শনী স্থগিতের ঘোষণা দেন।
এদিকে সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী, চলচ্চিত্রপ্রেমী ও নির্মাতারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক চর্চা করে আসছেন। কিন্তু এবার বাধা ও প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, একটি বৈধ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারাও এ ঘটনাকে গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে চলচ্চিত্রটির নির্মাতা তানিম নূরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন নির্মাতা ও সংস্কৃতিকর্মী বলেছেন, মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।
ঘটনাটি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ এটিকে ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ বলছে এটি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও মুক্তচর্চার ওপর অযাচিত চাপের বহিঃপ্রকাশ। ফলে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর একটি প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার ঘটনা এখন জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।



