আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের ওয়ার্ডের পাশে রুটি তৈরির কারখানা

রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতকদের এনআইসিইউ’র পাশেই ছিল রুটি বানানোর কারখানা। দুইটি হাইপাওয়ারের ইলেকট্রিক ওভেনে হাসপাতালের স্টাফ, রোগী ও শিক্ষার্থীদেও জন্য রুটি বানানো হত।

ঈদের আগের দিন বুধবার ভোরে এই এনআইসিইউতে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি এনআইসিইউ পরিদর্শন করে রুটি বানানোর গন্ধ পান। পরে এনআইসিইউয়ের পাশেই রুটি বানানোর কারখানা দেখতে পান।

তদন্ত কমিটির কাছ থেকে তথ্য পেয়ে শনিবার বিকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল সরেজমিন হাসপাতালে আসেন। তিনি রুটি বানানোর কারখানাটি সিলগালা করার নির্দেশ দেন। এরপর হাসপাতালটিতে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাধা দেন। হাসপাতালটির কর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে রুটির কারখান:
আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রুটির কারখানা খুঁজে পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। শনিবার বিকেলে হাসপাতালে পরিদর্শনে এসে কারখানাটির সন্ধান পান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি শুনতে পেয়েছি, হাসপাতালে একটি রুটির কারখানা আছে। ইলেকট্রনিক ওভেন দিয়ে দুইটাতে (হাসপাতাল ১ ও ২) বেকারি চলে। এই জায়গাটা আমার দেখা দরকার ছিল। আপনারাও (সাংবাদিক) বলতে পারতেন, আপনি তো আসলেন না, এ থেকে আমি মুক্তি নিলাম।

তিনি বলেন, এখানে কোনো ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার পাইনি। দুইজন মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট পেয়েছি। আর এটি গার্বেজ পরিস্থিতি। যেখানে হাজার হাজার রোগী আর শিক্ষার্থী থাকে, এটি উচিত হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের পরিদর্শনের অভাব বা যেকোনো কারণে এই অনিয়ম চলছে, এটা তাদের উচিত হয়নি। এগুলো আমরা মনিটর করবো। শেষ পর্যন্ত আমরা দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করবো। আমার ধারণা রুটির কারখানা থেকে এমনটা হতে পারে। সেখান থেকে কোনো গ্যাস প্রবাহিত হচ্ছে কি না, যেহেতু রুমের মধ্যে গন্ধ পাচ্ছি। তদন্ত রিপোর্টে সবকিছু উঠে আসবে।

শিশুদের ময়নাতদন্ত না হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শিশুদের ময়নাতদন্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে তথ্য প্রমাণের জন্য। তবে কোনো বাবা-মা-ই রাজি হয়নি। পরিবেশগত দিক; সব তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। কী কারণে মারা গেছে শিশুরা, এটা তদন্ত কমিটি ভালোই বুঝবে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা
হাসপাতালে সংবাদ কাভার করতে যাওয়া ক্যামেরাম্যান ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের সবকটি প্রবেশমুখ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় পেশাগত কারণে গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। পরে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।

হামলায় টাইমস অব বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার কাজী জাহিদ, দীপ্ত টিভির ক্যামেরাপারসন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বৈশাখী টিভির ক্যামেরা, দীপ্ত টিভি ও এটিএননিউজের বুম ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
আদ-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক নাহিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেকারি সিলগালা করে দিয়ে গেছেন। এখন আর কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব না।

এর আগে বুধবার (২৭ মে) সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments