অ্যালকোহল পানে প্রাণ গেল দুইজনের

রংপুরের মিঠাপুকুরে নেশাজাতীয় অ্যালকোহল পানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃতরা হলেন, উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৬০) ও একই ইউনিয়নের বুজরুক ঝালই এলাকার মৃত মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫)।

সোমবার (১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন আরও দু’জন। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

গুরুতর অসুস্থরা হলেন- সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মৃত কফুর উদ্দিনের ছেলে মো. সাজু মিয়া (৫৫) ও বুজরুক ঝালই পাকারমাথা এলাকার মৃত সুলতান আলীর ছেলে এরশাদ মিয়া (৪০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৩১ মে) রাতে বালারহাট বাজারে কয়েকজন ব্যক্তি নিষিদ্ধ অ্যালকোহল পান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয় এবং অপর দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হুজুর আলী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। অপরদিকে ছাত্তার মিয়া তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে কয়ারমারি গুচ্ছগ্রামে বসবাস করতেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে তার মরদেহ এনায়েতপুর সাতভেন্টি এলাকায় তার বোন আকলিমা বেগমের বাড়িতে রয়েছে।

বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সুজা মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গতরাতে রোববার (৩১ মে) কোনো এক সময় তারা অ্যালকোহল পান করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। সকালে বাড়িতে আব্দুস সাত্তার ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে হুজুর আলী মারা যান।

এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাজু (৫০) নামে একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এরশাদ আলী (৩০) নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ ঘটনা জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ এবং মিঠাপুকুর থানার ওসি তদন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মিঠাপুকুরের  বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, তারা মদ্যপান করেই মারা গিয়েছে। লাশ যাতে পোস্ট মডেম করাতে না হয়, এই জন্য পরিবারের লোকজন বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সুজা মিয়া বলেন, গতরাতে (৩১ মে) কোনো এক সময় তারা রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। সকালে বাড়িতে আব্দুস সাত্তার ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে হুজুর আলী মারা যান। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাজু (৫০) নামে একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এরশাদ আলী (৩০) নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর হোসেন বলেন, হাসপাতালে এমন কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।

মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহমেদ জানান, হুজুর আলী নামের একজনের কার্ডিয়াক অ্যাটাকে হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। অপরজনের মদপানে মৃত্যু হয়েছে কিনা, আপাতত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: পারভেজ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments