মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে কঠোর নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে থানাগুলোকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে পুলিশি সেবা পায় এবং কোনো অপরাধ যেন থানা এলাকায় সংঘটিত হতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মে ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হতে হবে। মাদক উদ্ধার, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে থানাগুলোকে দালালমুক্ত রেখে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সেবাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আসন্ন পবিত্র আশুরাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শ্রেষ্ঠ মিরপুর বিভাগ

মে মাসে ঢাকা মহানগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সার্বিক কর্মদক্ষতার মূল্যায়নে ডিএমপির অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছে মিরপুর বিভাগ। একই সময়ে শ্রেষ্ঠ থানার স্বীকৃতি পেয়েছে উত্তরা-পশ্চিম থানা।

মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত কর্মকর্তা ও ইউনিটগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডিএমপি কমিশনার।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, মে মাসের মূল্যায়নে উত্তরা-পশ্চিম থানা প্রথম, মিরপুর মডেল থানা দ্বিতীয় এবং বনানী থানা তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুল ইসলাম রনি প্রথম এবং পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদ হোসেন দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

শ্রেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মিরপুর মডেল থানার এসআই মো. সামছুদ্দৌহা এবং পল্টন মডেল থানার এসআই অমিত কুমার বিশ্বাস।

এছাড়া সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই মো. আখতারুজ্জামান মণ্ডল পলাশ এবং খিলগাঁও থানার এএসআই দেবাশীষ চক্রবর্তী।

গোয়েন্দা ও ট্রাফিক বিভাগেও পুরস্কার

গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে মে মাসের শ্রেষ্ঠ ইউনিট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ডিবি-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন ডিবি-ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম।

অন্যদিকে ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন দারুসসালাম ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. রাসেল আলম।

মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখা কর্মকর্তা ও ইউনিটগুলোর হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments