রাজধানীর তুরাগ নদে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ ভাসছে—এমন দাবি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলে। তবে পুলিশ সদর দপ্তর এ দাবিকে সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। এরই মধ্যে তুরাগ নদ থেকে আওয়ামী লীগের দুই কর্মীসহ মোট তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
পুলিশ, স্বজনদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আশুলিয়ার রুস্তমপুর ঘাট থেকে একটি ট্রলারে করে ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী নদীপথে কর্মসূচিতে অংশ নিতে রওনা হন।

পথে পুলিশ ট্রলারটির গতিরোধের চেষ্টা করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হলেও কয়েকজন সাঁতরে পালিয়ে যান। এরপর কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার চার দিন পর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় ছাত্রলীগের কর্মী সুমনের মরদেহ। পরে একই নদী থেকে উদ্ধার করা হয় আওয়ামী লীগের কর্মী আরিফুল ইসলাম রাকিবের মরদেহ। এছাড়া পৃথক আরেকটি ঘটনায় একই নদী থেকে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ পর্যন্ত তুরাগ থেকে মোট তিনটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, নদীতে সাতজন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর মরদেহ ভাসছে। শনিবার পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এমন তথ্যের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করে পুলিশ সবাইকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশের ধাওয়ার সময় নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর প্রবল স্রোতে নিখোঁজ হয়ে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, তারা নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করলেও কোনো তথ্য পাননি। পরে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে গিয়ে স্বজনদের শনাক্ত করেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি, পাল্টা দাবি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, উদ্ধার হওয়া তিনটি মরদেহের ঘটনা তদন্তাধীন এবং গুজব ছড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তুরাগের এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।



