আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের শেষ বাঁশির পরই ফুটবল দুনিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে মিশরকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা মিশরের জেতা ম্যাচ। রেফারি না থাকলে আর্জেন্টিনাকে বাড়ি ফিরতে হতো। মিশর ফুটবল সংস্থা রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
মিশর ফুটবল সংস্থার সভাপতি হ্যানি আবো রিদা ফিফার কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, বিতর্কিত রেফারিকে যেন বিশ্বকাপের আর কোনো খেলা পরিচালনা করতে না দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার বালোগুনের লাল কার্ডের শাস্তি প্রত্যাহার করে নিয়েছে ফিফা। কোন আইনে সেটি করা হয়েছে, তা জানতে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের ২৭টি দেশের আইনপ্রণেতারা ফিফার এথিকস কমিটির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।
ফিফার সভাপতি ইনফান্তিনো নিজেই জানিয়েছেন, ফুটবলার বালোগুনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প ফোন করেছিলেন। এই ঘটনা তরতাজা থাকতেই নতুন বিতর্ক আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের ফরাসি রেফারিকে নিয়ে। মিশরের গোল বাতিল থেকে পেনাল্টি না দেওয়া, সহকারী কোচকে লাল কার্ড, হেড কোচকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি।
ফুটবল কোচ মরিনহো মিশরের গোল বাতিল নিয়ে কড়া মন্তব্য করে বলেছেন, ‘যদি ফাউল হয়ে থাকে, তাহলে আগেই ধরা উচিত ছিল। গোল হওয়ার পর কেন ফাউল বলা হলো। এটা ডাকাতি করা হয়েছে।’
২-০ গোলে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা পিছিয়ে ছিল। ১৭ মিনিটে ৩ গোল, আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জয় ছিনিয়ে নেয়। আর্জেন্টিনার গোল নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। মেসিরা অসাধারণ ফুটবল খেলেই গোল আদায় করে নিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে মিশরের দ্বিতীয় গোল বাতিল এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে।
ভিএআর চেক করে গোল বাতিল করা হয়েছে। বিতর্ক হচ্ছে মিশর যেগুলো ফাউল পায়, তা দেয়নি রেফারি। আর্জেন্টিনা যেসব পায় না, সেগুলো পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। সব সমালোচনার তির খেলার রেফারির দিকে। রেফারিং বিতর্ক ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন অনেকেই। ফ্রান্সের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারকে দুষছেন।
সমালোচকরা বলছেন আর্জেন্টিনাও লজ্জা পেয়েছে রেফারিং দেখে। আবার কারো মতে রেফারি সঠিক সিদ্ধান্তই গ্রহণ করে। সব সিদ্ধান্ত সবার পছন্দ হবে না। একজন রেফারি যখন খেলা পরিচালনা করেন, তখন তার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান কেমন থাকে, সেটি একজন সাধারণ দর্শকের পক্ষে পুরোপুরি বুঝে ওঠা সম্ভব না। কোনো কিছুতেই কান দিতে রাজি না মিশর।
মাঠের উত্তেজনা সংবাদ সম্মেলনে উগরে দিয়েছেন মিশরের কোচ হোসেন হাসান, পরিষ্কার বলেছেন-‘আমাদের প্রতি অন্যায় হয়েছে। অবিচার করা হয়েছে।’ রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন কোচ। অনেক বিষয় তিনি তুলে এনেছেন।
ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যা-নির্যাতন থেকে শুরু করে পৃথিবীর বিবেক জাগ্রত করার কথা তুলে আনেন তিনি। ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে মিশরের কোচ মাঠে যেতেন। মার্কিন মুল্লুকে ফুটবল মাঠে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনি হত্যার প্রতিবাদ জানাতেন। পুরো পৃথিবী এসব দেখেছে।
আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায়বেলায় মিশরের কোচ বলেন, ‘আমাদের পক্ষে একটি পেনাল্টি বাতিল করা হয়েছে, এমনকি ভিএআর দিয়েও তা যাচাই করা হয়নি এবং আমাদের দ্বিতীয় গোলটিও আশ্চর্যজনকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
যে কারণেই হোক, বাতিল করা হয়েছে। আমরা সবাই দেখেছি, ম্যাক অ্যালিস্টার পেছন থেকে জার্সি টেনে ধরলেও সেটি ভিএআর চেকও করা হয়নি। মনে হচ্ছিল রেফারির মনের ভেতরেই ম্যাচের স্কোর লাইন লেখা রয়েছে।’ মিশরীয় জিকোর দ্বিতীয় গোলের পর ভিভিআইপিতে বসা ফিফার সভাপতি ইনফান্তিনো চুপচাপ বসে ছিলেন।
তিনি এমনভাবে হাত নাড়লেন, যেন গোলের কারণে হতাশ হয়েছেন। চেয়ারেই বসে ছিলেন ইনফান্তিনো। অথচ পাশের সবাই গোলের আনন্দে উল্লাস করছিল-এই দৃশ্য ফুটবল দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় ফিফার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ছেন সমালোচকরা। কোচের দাবি ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে রেফারির ওপর যে চাপ দেওয়া হয়েছিল, তা সফল হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মিশর কোচ বলেন, ‘আমি বলতে চাই, জীবনে যে-ই সঠিক পথে চলে, তাকেই কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। যতক্ষণ আপনি সঠিক পথে চলবেন, ততক্ষণ আপনাকে কষ্ট সহ্য করতে হবে। আমরা সঠিক পথে হেঁটেছি, আমরা কষ্ট পেয়েছি এবং বাইরের বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’
আর্জেন্টিনাকে অযোগ্য দল বলেছেন মিমরের কোচ। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের কোনো খেলাই দেখব না, কারণ এখানে ন্যায়বিচার নেই।’
ম্যাচের পর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন গোলদাতা মোস্তফা জিকো। মাঠে দাঁড়িয়ে জিকো বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে গেলাম। এই রেফারি একজন জালেম রেফারি। আমাদের সঙ্গে চরম অন্যায় করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনাকেই দেওয়া হবে, এজন্যই রেফারি এসব কাজ করেছেন।’ রেফারিং নিয়ে কথা বলেননি দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। তিনি জানিয়েছেন, ‘কথা বলে সমস্যা।’



