সিলেট বিভাগের বেশ কয়েকটি স্থানে পরিবেশ ধংশী বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনে নদী তীরবর্তী এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে চলমান অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে অবস্থা দিনে দিনে বেগতিক আকার ধারণ করেছে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, সিলেট জেলার কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, গোয়াইঘাট সহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলন হচ্ছে। ফলে হুমকীর মুখে পড়েছে জনপদ, কৃষি জমি, বাড়ীঘর সহ বিভিন্ন স্থাপনা ও সহায় সম্পদ। পরিবেশ ধংশী যন্ত্রপাতির শব্দে তীরবর্তী বাসিন্দরা অতিষ্ট এবং অসহায়। রাতে তারা ঘুমাতে পারেন না।
কানাইঘাটে নদী তীরবর্তী অসহায় বাসিন্দাদেও আর্তি সরকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট: ‘আমাদের বাঁচান, আমরা সহায় সম্বলহীন মানুষ। যন্ত্রদানব আমাদের বাড়ীঘর ভেঙ্গে দিচ্ছে, মাথা গুজার ঠাই নাই।’ গত কয়েক দিন থেকে গ্রামবাসীর এমন আর্তির ভিডিও বার্তা সমাজিক যোগাযোগে ঘুরলেও কারো যেন সেদিকে যেন নজর দেয়ার সময় নাই।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল: অবস্য সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পার কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
গত সোমবার তাহিরপুর উপজেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমল গ্রহণকারী) আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়। তদন্তে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম এই অভিযোগপত্র জমা দেন।
চার্জশিটভুক্ত ২৭ জন আসামির মধ্যে অন্যতম হলেন, তাহিরপুর উপজেলার সোহালা গ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন, ঘাঘটিয়া আদর্শগ্রামের রানু মেম্বার, ঢালারপাড় (লাউড়েরগড়) গ্রামের জামাল মিয়া, বিলাল মিয়া এবং রাজারগাঁও জাঙ্গালহাটি গ্রামের বোরহান উদ্দিন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক জানান, বালুমহালের ইজারা-বহির্ভ‚ত এলাকার নদীর পার কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।
অন্যদিকে তাহিরপুর উপজেলার মাহরাম নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবাধে বালু লুট। একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের যোগসাজসে নদী থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। প্রশাসনের অভিযানে কয়েকটি ছোট নৌকা জব্দ এবং নিন্ম আয়ের কয়েকজন শ্রমিককে আটক করা হলেও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছেন। শুধু জীবিকার তাগিদে কাজ করা শ্রমিকরাই পড়েন বিপাকে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক বললেন, বিষয়টি নিয়ে আইন—শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচনা হয়েছে। আমরা স্থানীয় নেতৃবৃন্দদেও নিয়ে অভিযান চালাবো।
৫৬ একরের এলাকা জুড়ে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন: কিন্তু এদিকে গত পক্ষকাল থেকে কানাইঘাটে সুরমা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোতসব চললেও প্রশাসন নিরব। ইজারা বহির্ভূত স্থান থেকে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার বাণীগ্রাম ইউপির বড়দেশ দক্ষিণ ও কায়স্থগ্রামের বাসিন্দারা জানান, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদীর পানি দিন দিন বৃদ্ধি ও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করার সাথে সাথে দুই তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধে ঝুকি বাড়ছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে গত সপ্তাহে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। গ্রামবাসী জানান, পার্শ^বর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার পাশর্^দিয়ে বহে যাওয়া সুরমা নদীর মাত্র আড়াই একর ভূমি আয়াতনের নওয়াগাও বালু মহাল ইজারা গ্রহণকে পুজি করে জনৈক ব্যক্তির লোকজন কায়স্থগ্রাম থেকে বড়দেশ বাজার পর্যন্ত ইজারা অযোগ্য ৫৬ একরের এলাকা জুড়ে সুরম নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন ও বিক্রয় করে চলছে।
কৌশলে রাতে বালি উত্তোলন, দিনে লাল পতাকার ভিথর ড্রেজার রাখা হয়:
সূত্র জানায় জনৈক ব্যক্তি এক কোটি ৬৪ লাখ টাকা ইজারা মূল্যে সুরামা নদীর দক্ষিণের অংশে জকিগঞ্জ নয়া গ্রাম এলাকার একটি বালু মহাল ইজারা নেন। তহশীলদার সেখনে লাল পতাকা টানিয়ে এলাকাটিকে চিহ্নি করে দিলেও ইজারাদার পক্ষ কানাইঘাটের কায়স্থগ্রাম এলাকা থেকে বালি উঠাচ্ছেন । যা সম্পূর্ণ অবৈধ। গ্রামবাসী জানান, পরিবেশ ধংশী ‘ চারটি হাইড্রোলিক ড্রেজার দিয়ে ভোর ৩ টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে।
তারা কৌশল হিসাবে রাতে বালি উত্তোলন করে সকালে ইজারাকৃত নদীতে লালপতাকা টনানো স্থনে নৌকা, ড্রেজার ও বালি উত্তোলনের সরঞ্জাম নিয়ে রাখে। এলাকায় হুমকীর মুখে পড়েছে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মসজিদ, বসতবাড়ী, হাটবাজার, দোকানপাট, ফসলী জমি,স্কুল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্টান।
বিশেষ করে সবজি গ্রাম সমবায় সমিতির কোটি টাকা ব্যয়ে পানির পাইপ লাইন বিলীন হওয়ার পথে। গ্রামবাসী জানান, তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলার ভয় দেখানো হয়।



