বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদ শুধু রাজনীতি ও অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; বরং ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক মূল্যবোধেরও অবক্ষয় ঘটিয়েছে। সেই মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন আর কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। উগ্রবাদ ও চরমপন্থা মোকাবিলায় বিরোধী দলেরও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে নকল ও অটোপাসের সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করা হয়েছে। একইভাবে স্বাস্থ্য খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিহিংসার বদলে ন্যায়পরায়ণতা

সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতভিন্নতা থাকবে, তবে তা শত্রুতায় রূপ নেবে না। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবর্তে ন্যায়পরায়ণতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শহীদদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ

তিনি বলেন, শহীদরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, বৈষম্যের শিকার কেউ হবে না এবং চরমপন্থা বা উগ্রবাদের কোনো স্থান থাকবে না। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদ, দুঃশাসন, বৈষম্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে।

১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দক্ষ ও পেশাদার করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

এক কার্ডে সব সরকারি সুবিধা

প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন সম্মানী কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা ও আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ডে’ একীভূত করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা সহজে রাষ্ট্রীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। জনগণকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এসব সুবিধা রাষ্ট্রের অনুগ্রহ নয়, বরং নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

‘চট্টগ্রাম বন্দরে দুর্নীতি হলে বিচার হবে’

সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি জাতীয় সম্পদ। সেখানে কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকলে, যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments