‘এটাই আর্জেন্টিনা’—অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব

শেষ বাঁশি বাজতে তখনও কয়েক মিনিট বাকি। ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে অনেকেই বিদায়ের খাতায় লিখে ফেলেছিলেন। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মানসিক দৃঢ়তা আর লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শেষ মুহূর্তে ঘটে যায় অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন। শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোল এবং যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের জয়সূচক গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এই নাটকীয় জয়ের পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী, সাবেক তারকা ও কোচদের প্রশংসায় ভাসছে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, “এই দল হার মানতে জানে না। খেলোয়াড়রা মাঠে যা দিয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা প্রতিটি ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখি।” তিনি আরও বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারে এবং এই মানসিকতাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

অধিনায়ক লিওনেল মেসি গোল না করেও দুই গোলেই অবদান রেখে ম্যাচসেরা নৈপুণ্য দেখান। কানাডার সংবাদমাধ্যম স্পোর্টেনেট লিখেছে, “আবারও দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে সামনে এলেন মেসি।” অন্যদিকে আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে এই জয়কে আখ্যা দিয়েছে এপিক স্কোয়ার্ড, অর্থাৎ টানা দুই নকআউটে আর্জেন্টিনার আরেকটি মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন।

গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বলেন, “ইংল্যান্ড গোলের পর খুব নিচে নেমে রক্ষণে চলে যায়। তখনই আমরা বুঝতে পারি ম্যাচের গতি আমাদের দিকে আসছে। মেসিকে উইংয়ে এনে আমরা আক্রমণের নতুন পথ খুঁজে পাই।”

জয়সূচক গোলদাতা লাউতারো মার্তিনেজ বলেন, “ছোটবেলায় বাবা প্রথম যে বুটজোড়া কিনে দিয়েছিলেন, তখন থেকেই এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখতাম। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।”

আর্জেন্টিনার এই প্রত্যাবর্তনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ছিল সরব। ইএসপিএন জানায়, এনএফএলের তারকা প্যাট্রিক মাহোমস, কিংবদন্তি টম ব্র্যাডিসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। অনেকেই মেসিকে “চাপের মুহূর্তের সর্বকালের সেরা নেতা” বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডে হতাশা ছিল তুঙ্গে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে কোচ থমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলকে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গোল করার পর অতিরিক্ত রক্ষণে চলে যাওয়ায় আর্জেন্টিনা ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছে বলে মত দেন অনেক বিশ্লেষক। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও স্বীকার করেন, দলটি গোলের পর অতিরিক্ত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল।

বিশ্ব ফুটবলের বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচ আবারও প্রমাণ করেছে কেন আর্জেন্টিনাকে বড় টুর্নামেন্টের সবচেয়ে মানসিকভাবে শক্তিশালী দলগুলোর একটি বলা হয়। মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া সেই বিশ্বাসেরই আরেকটি উদাহরণ। এখন তাদের সামনে শেষ চ্যালেঞ্জ—ফাইনালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আর সেখানেই ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচে আরেকটি ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় লিওনেল মেসি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments