পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রশিদ ছাড়া জরিমানার টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার বিচার ও অভিযুক্ত টিটিইর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার সকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহী থেকে সারা দেশের সঙ্গে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে দায়িত্বরত টিটিই সুমন বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানার টাকা আদায় করলেও অনেক ক্ষেত্রে সরকারি রশিদ দিচ্ছিলেন না। বরং সেই অর্থ নিজের পকেটে রাখছিলেন। বিষয়টি দেখে প্রতিবাদ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টিটিই সুমন ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান। তবে অভিযোগের পরও অভিযুক্ত টিটিইর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
এর প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে জড়ো হয়ে রেললাইন অবরোধ করেন। ফলে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং রাজশাহীগামী সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, অভিযুক্ত টিটিই সুমনকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পোস্টে টিটিইর বিরুদ্ধে রশিদ ছাড়া জরিমানা আদায়, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে বা অভিযুক্ত টিটিইর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি চলছিল এবং রাজশাহী অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল।



