আত্মহত্যা বলে প্রচারের দাবি পরিবারের
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নে শান্তা রানী দাস (১৯) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী বাদল দেব নাথের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পশ্চিম চরজব্বার গ্রামের নাথপাড়ার একটি বাড়ি থেকে শান্তা রানী দাসের মরদেহ উদ্ধার করে চরজব্বার থানা পুলিশ। বুধবার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতের বাবা অনন্ত জলদাস জানান, চার বছর আগে পারিবারিকভাবে বাদল দেব নাথের সঙ্গে শান্তার বিয়ে হয়। তাদের দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তার অভিযোগ, চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করার সময় বাদল দেব নাথের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চাকরি ছেড়ে বাড়িতে ফেরার পরও ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। এ বিষয়টি নিয়ে সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে বাদল তার মেয়েকে মারধর করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঝগড়ার পর রাতে শান্তা স্বামীর জ্যাঠা গণেশ নাথের বাড়িতে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাদল দেব নাথের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



