দাদীকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করল নাতি

স্বর্ণের দুলের জন্য হত্যা, সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার

রাজধানীর দক্ষিণখানে মাহবুবা আরা বেগম (৭১) নামে এক বৃদ্ধাকে মুখে কাপড় ও বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার দূরসম্পর্কের আত্মীয় মো. আবু তালহা সজিবকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজিব জানিয়েছেন, টাকার প্রয়োজন হওয়ায় বৃদ্ধার কাছে টাকা চেয়েছিলেন। টাকা না পেয়ে প্রথমে স্বর্ণের কানের দুল চুরির চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় বৃদ্ধা তাকে চিনে ফেলায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন সজিব।

শুক্রবার নিহতের ছেলে মাহবুব হাসান বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় হত্যা মামলা করেন। গ্রেপ্তার সজিবকে শনিবার আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সজিব নিহতের ভাশুরের নাতি। তিনি নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন তার টাকার প্রয়োজন ছিল। তিনি যে বাসায় থাকতেন, সেখানে প্রায় ১৭ হাজার টাকা বাড়িভাড়া বকেয়া ছিল। এ কারণে মাহবুবা বেগমের কাছে টাকা চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় বৃদ্ধার স্বামী আসরের নামাজ পড়তে বাইরে গেলে সজিব ঘরে ঢোকেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে প্রথমে একবার ঘরে উঁকি দিয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়। পরে একটি কাপড় নিয়ে এসে ঘুমিয়ে থাকা মাহবুবা বেগমের মুখ চেপে ধরেন তিনি।

এ সময় বৃদ্ধা চিৎকার করে সজিবকে চিনতে পেরেছেন বলে জানান এবং তার ছেলে নিয়মিত অনলাইনে সিসিটিভি দেখেন বলেও বলেন। এতে সজিব ভয় পেয়ে তাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য, হত্যার পর সজিব বৃদ্ধার দুই কানের স্বর্ণের দুল খুলে নিয়ে একটি স্বর্ণের দোকানে বিক্রি করেন। পরে অভিযান চালিয়ে গলানো অবস্থায় ওই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। নিহতের হাতের চুড়িও নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সেগুলো স্বর্ণের না হওয়ায় পরে ফেলে দেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

নিহতের স্বজন এ কে এম রুহুল আমিন জানান, মাহবুবা বেগমের এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলে উত্তরায় থাকেন। এক মেয়ে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে এবং অপর মেয়ে টঙ্গীতে থাকেন। তাদের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায়।

তিনি বলেন, রাতে বাসার কক্ষে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় মাকে দেখতে না পেয়ে নিহতের ছেলে আগের ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। সেখানে এক যুবককে শয়নকক্ষে ঢুকে মাহবুবা বেগমের মুখ চেপে ধরতে এবং পরে মরদেহ টেনে অন্য কক্ষে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সজিবকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মিন্টু চন্দ্র রায় বলেন, বৃদ্ধা বাসায় একাই ছিলেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পিরোজপুরের কাউখালীতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments