জঙ্গি সংগঠন আখ্যা দিয়ে কালো তালিকাভুক্ত, ব্যাংক হিসাব জব্দ ও কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান
নোয়াখালীতে ইসলামী মহাসমাবেশ থেকে ‘হিযবুত তাওহীদ’কে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। বক্তারা সংগঠনটিকে ইমান বিধ্বংসী উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে সরকারের কাছে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, জমিয়তুল মুদাররিসিন নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর এবং ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৃহত্তর নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, ‘হিযবুত তাওহীদ’কে কালো তালিকাভুক্ত করে সংগঠনটির প্রচারপত্র, প্রকাশনা ও ওয়েবসাইট বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, সারাদেশে ‘হিযবুত তাওহীদ’ কর্তৃক মুসলমানদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী অভিযোগ করেন, ‘হিযবুত তাওহীদ’ ইসলামের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, তাওহিদী জনতার দাবি—সরকার যেন সংগঠনটিকে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সংগঠনটির কার্যক্রমের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তুল মুদাররিসিন নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সভাপতি ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান। প্রধান বক্তা ছিলেন নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ।
এ ছাড়া সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাতিয়া মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কাসেমী, খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটির আমির আল্লামা আবদুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার পরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শেখ সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম চরমোনাইসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারা সরকারের কাছে ‘হিযবুত তাওহীদ’-এর বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।



