রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনসহ তিন দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে তারা রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের কাছে এ স্মারকলিপি তুলে দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি তিস্তার তীব্র ভাঙনে চর বাগডোহরা এলাকার প্রায় ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সাতটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক এবং রোগীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে কালীগঞ্জ খেয়াঘাট পর্যন্ত এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত প্রতিরোধ বাঁধেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শত শত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
স্মারকলিপিতে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—চর বাগডোহরা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক দ্রুত সংস্কার, বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে কালীগঞ্জ খেয়াঘাট পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ, পাশাপাশি বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
এ সময় স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে চর বাগডোহরার বাসিন্দা আল আমিন মিয়া, ইসমাইল হোসেন, মোনাইম হোসেন, মুকুল মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাবাসী জানান, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চলমান নদীভাঙনে জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে এবং বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়বে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।



