প্রতারণার মাধ্যমে নকল বিড়ি বাজারজাতের অভিযোগ

এনবিআর ও দুদকে অভিযোগ, তদন্ত শুরু

মামলার পরও থামেনি নকল কারবার—অভিযোগ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে

জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে নকল বিড়ি প্রস্তুত ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের হারাগাছ থানার শফিকুল ইসলাম খলিফার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এনে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রাম পৌরসভার আলহাজ আজিজুল হকের ছেলে পনির উদ্দিন আহমেদ মেসার্স জলিল বিড়ির স্বত্বাধিকারী। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় চার দশক ধরে সরকারি নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে এবং জাতীয় রাজস্ব আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সম্প্রতি রংপুরের হারাগাছ থানার আবুল টোব্যাকো মোড় এলাকার খয়রত মিয়া খলিফার ছেলে শফিকুল ইসলাম খলিফা ‘১ নং জলিল বিড়ি’ নামে একটি নকল পণ্য প্রস্তুত ও বাজারজাত শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মূল জলিল বিড়ির ব্যান্ডরোল, মোড়ক ও কপিরাইট নকল করে বাজারজাত করছেন। এতে প্রকৃত জলিল বিড়ির ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নকল বিড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর থেকে ট্রেডমার্ক নিবন্ধন নেয়নি। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি বিআইএন (ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর) নিবন্ধন পেয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি ‘১ নং স্পেশাল জলিল বিড়ি’ নামে রংপুর বিভাগীয় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট থেকে ভ্যাট নিবন্ধন ও সনদ গ্রহণ করেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওই প্রতিষ্ঠানের বিআইএন নম্বর ০০৭৪৬৫৬৭৪-১০০১।

অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি শিল্প মন্ত্রণালয়ের নজরে আসার পর পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একটি অসাধু চক্র সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নকল বিড়ির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কাজে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া বিআইএন নিবন্ধন বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে নকল বিড়ি বাজারজাত করে শফিকুল ইসলাম খলিফা ও তার সহযোগীরা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তারা নামে-বেনামে বাড়ি, জমি ও গাড়ি কিনেছেন এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নকল বিড়ি প্রস্তুত ও বাজারজাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ফৌজদারি মামলা এবং ক্ষতিপূরণ মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শফিকুল ইসলাম খলিফার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments