কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে
দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান। তিনি বলেছেন, সব ধরনের সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এরপরও কেউ সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে ‘মাঠ পর্যায়ে সার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষি সচিব বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তাই সার বিতরণে কোনো কর্মকর্তা অবহেলা বা অনিয়ম করলে এর দায় ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেই নিতে হবে। একই সঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়ারও মুখোমুখি হতে হবে।
সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সার নিয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট সরকার কঠোরভাবে দমন করবে। প্রয়োজনে সাংবাদিকরা সার গুদাম ও ব্যবসা কেন্দ্র পরিদর্শন করে মজুতের সত্যতা যাচাই করতে পারেন।
কোনো এলাকায় সারের বাড়তি চাহিদা থাকলে জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অতিরিক্ত সার বরাদ্দের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান কৃষি সচিব।
তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপ থাকা সত্ত্বেও কৃষকের কল্যাণে সরকার সারে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ডিএপি সারে সরকার ৮৯ টাকা এবং ইউরিয়া সারে ৩৫ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
সার ডিলারদের উদ্দেশে কৃষি সচিব বলেন, সরকার জনকল্যাণে কাজ করে। ব্যবসায়ীদেরও সরকারের কাজে সহযোগিতা করতে হবে, যাতে সাধারণ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
ডিলারদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ডিলারদের কমিশন ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কৃষি সচিব আরও বলেন, প্রশাসন, কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুষ্ঠু সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, আরএমপি কমিশনার, রাজশাহী বিভাগের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তারা, বিএসিআইসি ও বিএডিসির প্রতিনিধি, সার ডিলার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



