নোয়াখালী টাউনহল শুধু বানিজ্যিকভাবে আধুনিকায়ন করলে করলে হবে না, পুরানে ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। কারন এই টাউন হল একসময় এ অঞ্চলের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল। দিন শেষে ছিলো আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের ভ্রাতৃত্বের মিলন কেন্দ্র।
তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সামাজিক সমস্যাগুলো এখানে বসে সমাধান হতো। যার কারনে আমাদের জেলার মানুষ শান্তিতে ছিল। এখনো আছে। আমি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ^াস করি না। প্রতিহিংসায় শান্তি আসেনা। আমি তা বজায় রেখেছি। এ টাউন হলের উন্নয়নে আমার সহযোগিীতার পাশাপাশি আমাদের জেলা প্রশাসকে গৃরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। আমি আশা তিনি কমিটির সদস্যদের নিয়ে উন্নয়নের একটি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।
বুধবার দুপুরে নোয়াখালী টাউন হলের উন্নয়ন বিষয়ে সদস্যদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন টাউন হলের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আলম মতিননের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, রাজনীতি করতাম, সে সময় আমদের দলের সম্মেলন ও সভাগুলো আমরা এ টাউন হলে করতাম, নাটক হতো দেখতে আসতাম। তখন এই টাউন হলকে ঘিরে ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন মৃখরিত । আজ সেটি হারিয়ে গেছে। উন্নয়নের নামে বানিজ্যিভাবে ব্যবসার জন্য নয়, সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উন্নয়ন করতে হবে। যদি এটি হয় তা হলে আমি জেলা পরিষদ থেকে উন্নয়নের জন্য একটি বড় ধরনের আর্থিক অনুদান দেব।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে পুরতন জেলাগুলোতে টাউন হল ক্লাবগুলো রয়েছে। ক্লাবগুলো রাজনৈতিক, সামাজিক স ও ধর্মীয় সম্প্রতি রক্ষার কেন্দ্র বিন্দু ছিল ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে গড়ে উঠে ছিল। কালের বির্বতনে সে সব কালচার আগের মতনেই। সময়ের সাথে অনেক কিছু পরিবর্তন হবে এটা স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, এ টাউন হলের আধুনিকায়নের কথা এসেছে। ঐতিহ্য রক্ষায় আধুনিকায়নের কথা ভুলে যাবো সেইটিও গ্রহন যোগ্য নয়। সব কিছু বিবেচনা নিয়ে কাজ করতে হবে। এবিষয়ে পরবর্তীতে কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তিনি মত ব্যক্ত করেন।



