কোমলমতি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা, আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা বিকশিত করতে উপযুক্ত শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা ও স্বাস্থ্যকর প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো শিশু-কিশোর যেন অবহেলায় ঝরে না পড়ে এবং প্রত্যেক শিশু যেন অভিভাবক ও পরিবারের কাছে সুরক্ষিত থাকে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রত্যেক শিশুর জীবন অগণিত আকাশচুম্বী ভাবনায় ভরপুর। শুধু চায় সুষ্ঠু শিক্ষাব্যবস্থা, তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বন্দোবস্ত এবং সবুজ খোলা মাঠে প্রকৃতির মধ্যে খেলাধুলা ও বিচরণের সুযোগ। যেকোনো ব্যাধির চিকিৎসার নিশ্চয়তা আমাদের সবার সৃষ্টি করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা, উপজেলা, ৫৯৯টি ইউনিয়ন ও ৯ হাজার ৯৯০টি গ্রামের কোনো শিশু-কিশোর যেন অবহেলায় ঝরে না পড়ে। প্রত্যেক শিশু যেন তার অভিভাবক ও পরিবারের কাছে সুরক্ষিত থাকে।’
শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘যেকোনো আকাঙ্ক্ষার জন্য মুক্ত আকাশই শেষ সীমানা। শিশু-কিশোররা আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাবে। কারণ, আজকের শিশু আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ।’
শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পেলে শিশুরা তাদের অসীম প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। দলগতভাবে সাফল্য অর্জন ও খেলাধুলার মানসিকতা তাদের পরবর্তী সময়ে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে শক্তি ও মনোবল জোগাবে।
তিনি বলেন, ‘শিশুরা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রিয় ও মূল্যবান সম্পদ। তাদের সবার মধ্যে আকাশচুম্বী স্বপ্ন—নীল আকাশে ডানা মেলে উড়বে। তাদের ইচ্ছা—আকাশচুম্বী মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

জুবাইদা রহমান আরও বলেন, শিশুরা আজ প্রমাণ করেছে সবাই মিলে একসঙ্গে কিছু সার্থক করার শক্তি। খেলাধুলার ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত জরুরি। এ শিক্ষা তাদের ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার মনোবল ও শক্তি জোগাবে। ‘তোমরাই নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশের মুখ আলোকিত করবে’—বলেন তিনি।
এর আগে সকালে ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শন করেন। স্কুলে পৌঁছালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) ও আদার্স উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাবের সভাপতি সালেহা খান তাকে স্বাগত জানান। এ সময় স্কুলের শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেয়।
পরিদর্শনকালে ডা. জুবাইদা রহমান স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন থেরাপি কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি হাইড্রোথেরাপি, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, সাইকোলজি ও মিউজিক থেরাপি কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৮ জন শিক্ষক ও থেরাপিস্ট এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ২০২১ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ‘ব্লু স্কাই’ স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক এবং একজন সিস্টার বা ব্রাদারের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী মূলধারার শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় কয়েকজনকে সহকারী থেরাপিস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পরে ডা. জুবাইদা রহমান বাফওয়ার বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘বাফওয়া কর্নার’ পরিদর্শন করেন। সেখানে বাফওয়া ক্রাফটস অ্যান্ড বুটিক, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রকল্প ও বাফওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোমের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবহিত হন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি হস্তশিল্প সামগ্রী দেখেন।
অনুষ্ঠানে নারীদের ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নে বাফওয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, দেশের ৫১ শতাংশ নারী জনসংখ্যার উন্নয়নে বাফওয়ার প্রশিক্ষণ ও হস্তশিল্পের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অভিনব। একই সঙ্গে তিনি গোল্ডেন ঈগল স্কুলের ছাত্রীদের ধন্যবাদ জানান এবং তাদের সম্ভাবনার শীর্ষে পৌঁছানোর শুভকামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বাফওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভানেত্রী ও সদস্যরা, বাফওয়া এ কে খন্দকার ও বাশার-এর সভানেত্রী ও সহসভানেত্রীসহ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



