রোটনের জানাজা ঘিরে ধানমন্ডিতে উত্তেজনা, আটক ৪

লাশবাহী গাড়ি সায়েন্সল্যাবে আটকে দেয় পুলিশ

তাকওয়া মসজিদে জানাজা হয়নি

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার বিকালে ধানমন্ডির লেক সার্কাস এলাকার তাকওয়া জামে মসজিদে তার জানাজা হওয়ার কথা ছিল। তবে পুলিশের বাধায় মরদেহবাহী গাড়ি মসজিদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। এদিকে জানাজায় অংশ নিতে আসা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের বিরোধের জেরে কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোটনের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর ঢাকায় জানাজা শেষে চট্টগ্রামের রাউজানে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে বাদ আসর জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। জানাজার খবর ছড়িয়ে পড়লে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী এবং রোটনের শুভাকাঙ্ক্ষীরা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মসজিদের আশপাশ ও ধানমন্ডি ঈদগাহ মাঠ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

সায়েন্সল্যাবে আটকে দেওয়া হয় লাশবাহী গাড়িঃ
লাশ নিয়ে আসা ব্যক্তিরা বিকাল পৌনে ৪টার দিকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের ধানমন্ডির দিকে যেতে বাধা দেয়। লাশের সঙ্গে থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মো. রবিন জানান, তাকওয়া মসজিদে বাদ আসর জানাজা হওয়ার কথা ছিল। সায়েন্সল্যাব মোড়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর মরদেহ দ্রুত নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে তারা ঢাকায় জানাজা না করেই চট্টগ্রামের পথে রওনা হন।

তবে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল ইসলাম জানান, মরদেহ বহনকারীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল। তিনি তাদের ধানমন্ডিতে এসে জানাজা পড়ানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু তারা চট্টগ্রামে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার আশঙ্কায় সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তিনি জানান।
ফলে তাকওয়া মসজিদে জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে মরদেহ নেওয়া হয়নি এবং জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়নি। এর আগে কলকাতায় রোটনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মসজিদের সামনে মারধরের অভিযোগঃ
জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের অভিযোগ, মসজিদের সামনে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জানাজায় অংশ নিতে আসা মাজহারুল ইসলাম মানিক অভিযোগ করেন, জানাজার আগেই মরদেহ ধানমন্ডিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ সময় সেখানে আসা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানো হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, তাকওয়া মসজিদের পেছনে মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের চারজনকে আটক করা হয়। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ওসি ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, ধানমন্ডিতে রোটনের কোনো জানাজা হয়নি এবং তার মরদেহও সেখানে আসেনি। তাকওয়া মসজিদের পেছনে মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা মিছিল করার চেষ্টা করছিলেন।

জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের মারধরের অভিযোগ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে বিস্তারিত পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার পুরো পরিস্থিতি ও সংঘর্ষের সূত্রপাত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন গত শনিবার ভারতের কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। রবিবার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তার মরদেহ দেশে আনা হয়।

রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। পরবর্তী সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও যুক্ত হন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments