তাজমিন হত্যা: কক্সবাজার থেকে কথিত প্রেমিক রাজু আটক

আদালতে স্বীকারোক্তি সুমনের

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এবার কক্সবাজার থেকে তার কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, তাজমিন হত্যাকাণ্ডে রাজুর সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী রাজুকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে রাজুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

কক্সবাজারে যাওয়া, হোটেলে অবস্থান

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাজমিনের সঙ্গে রাজুর পরিচয় হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। পরিচয়ের সূত্র ধরে তারা কক্সবাজারে যান। গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় তারা কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। সেখানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থান করার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছাড়েন। পরে রাজু তাজমিনকে কুমিল্লাগামী বাসে তুলে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। হোটেলের নিবন্ধন খাতা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কক্সবাজারে তাজমিনের অবস্থানের তথ্য সামনে আসে।

তবে কক্সবাজারে রাজুর সঙ্গে অবস্থান করার তথ্য থাকলেও, সেটিই হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের ফলই চূড়ান্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার

তাজমিনের বাড়ি কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকায়। ৭ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার থেকে বাসে কুমিল্লায় ফেরার পর পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় নেমে বাড়ি যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে সে। ওই অটোরিকশার চালক ছিলেন সুমন মিয়া।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বাড়ি ফেরার পথে তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরদিন ৮ অক্টোবর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সুমনের স্বীকারোক্তি, কারাগারে পাঠানো হয়েছে

এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

১০ অক্টোবর সুমনকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সুমনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে; অন্যদিকে রাজুর বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি।

তদন্তে এখন গুরুত্বপূর্ণ কী

তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রা, রাজুর সঙ্গে হোটেলে অবস্থান, কুমিল্লায় ফেরার বাসযাত্রা এবং বাড়ি ফেরার পথে হত্যাকাণ্ড—এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাজুকে আটকের পর তার ভূমিকা, তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ঘটনার আগে-পরে তাদের কথাবার্তা সম্পর্কে পুলিশ কী তথ্য পায়, তা এখন দেখার বিষয়।

এ মুহূর্তে রাজুকে আটক করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য; তাকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে নিশ্চিতভাবে দাবি করার মতো তথ্য পুলিশের প্রকাশ্য বক্তব্যে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সুমনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এখন তদন্তের পরবর্তী তথ্য ও আদালতের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ চিত্র।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments