রংপুরের বদরগঞ্জে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া মমতাজুর রহমানকে ১৮ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার বিকেলে জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গভীর রাতে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় তার হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মমতাজুর রহমানকে আটক করে রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। আটকের পর তাকে হাতকড়া পরানো হয়। পরে পুলিশ তাকে গাড়িতে তোলার সময় কৌশলে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান তিনি। এরপর তাকে ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার অভিযানের পর রোববার বিকেলে মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মমতাজুর রহমান গোপালপুর ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে সাহস পেতেন না বলেও দাবি তাদের। তাকে গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশ এর আগেও একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মমতাজুর রহমান প্রকাশ্যে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। এর আগে তিনি গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। শনিবার রাতে ডিবি পুলিশের হাতে তার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতকড়াসহ তার পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাদক কারবারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে না পারেন, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুর রহমান বকুল বলেন, মমতাজুর রহমান একসময় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিএনপিতে কোনো স্থান নেই। কেউ এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নবিউল হাসান জানান, শনিবার রাতে বদরগঞ্জের শিবপুর এলাকা থেকে আটকের পর মমতাজুর রহমান কৌশলে পালিয়ে যান। পরে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে রোববার বিকেলে মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশকে সহায়তা করতে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। গভীর রাতে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়। পরে পলাতক আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



