দলিত, আদিবাসীসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও বৈষম্য দূরীকরণে সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে তাদের সচেতন করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধি ও আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, শুধু সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রংপুর নগরীর ধাপ এলাকার একটি হোটেল মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হেক্স/ইপারের আয়োজনে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বিভাগীয় বার্ষিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম। হেক্স/ইপারের টেকনিক্যাল অফিসার (রাইটস অ্যান্ড এনটাইটেলমেন্ট) পাপন সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের সভাপতি চিত্ত ঘোষ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো. আবু জাফর এবং রংপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের সাধারণ সম্পাদক পার্থ বোসসহ অন্যরা। সম্মেলনে দলিত, আদিবাসীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের কারণে দলিত, আদিবাসীসহ বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সেবা প্রদান করছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্য ও সচেতনতার অভাবে অনেকেই এসব সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় সরকারি সেবা ও সহায়তা সম্পর্কে তাদের অবহিত করা এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তারা আরও বলেন, সমাজে বৈষম্য দূর করতে হলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তাদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, আর্থিক সহযোগিতা এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
বক্তারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



