কামারপাড়া স্কুলের ১৬৪ শতাংশ জমি নিয়ে বিতর্ক, দখলের অভিযোগ

মাসে ১৬ লাখ টাকায় ভাড়ার চুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে বিভ্রান্তিকর বললেন দাতার ছেলে

রাজধানীর উত্তরার কামারপাড়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দান করা ১৬৪ শতাংশ জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জমিটি ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের নামে জোরপূর্বক হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন জমিদাতা মরহুম আক্কাস আলী মেম্বারের ছেলে ও তুরাগ থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম। তার দাবি, পরবর্তী সময়ে জমিটি আবার কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের নামে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে জমির একাংশ রফিক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে তিন বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরেন জহিরুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে এলাকার দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের স্বল্প খরচে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে তার বাবা নিজের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের জন্য ১৬৪ শতাংশ জমি দান করেন। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ জমিটি ভোগদখল করে আসছিল।

জহিরুল ইসলামের অভিযোগ, ২০১০ সালে তৎকালীন গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আবুল হাশেম বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের নামে জমি লিখে দিতে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলামের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। মাউশির অনুমোদন ছাড়া জমি হস্তান্তরে রাজি না হওয়ায় আমিরুল ইসলামকে পরিবারসহ প্রতিষ্ঠান থেকে উৎখাত করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে খুরশিদ জাহানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে মাউশির অনুমোদন ছাড়াই জমিটি হস্তান্তর করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং জমি হস্তান্তরের দলিল ও প্রশাসনিক অনুমোদনের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

জহিরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জমিটি পুনরায় কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের নামে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে রফিক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সঙ্গে তিন বছরের ভাড়ার চুক্তি করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী মাসে ১৬ লাখ টাকা ভাড়া পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ অর্থ দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভাড়ার অঙ্ক নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের হিসাবগত অসংগতি রয়েছে। মাসে ১৬ লাখ টাকা হিসাবে তিন বছরে মোট ভাড়া দাঁড়ায় ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। অথচ প্রথম আলো ও ৭১ চ্যানেলে প্রকাশিত তথ্যের বিষয়ে তিনি ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার অঙ্ক উল্লেখ করে আপত্তি জানান।

এদিকে, জমি ও ভাড়ার চুক্তি নিয়ে প্রথম আলো ও ৭১ চ্যানেলে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জহিরুল ইসলাম। প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রউফসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments