নিরাপত্তা চেয়ে জিডি, তদন্তে নেমেছে পুলিশ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারাধীন সাবেক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অন্যতম সাক্ষী ও ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস মামুনকে কাফনের কাপড় ও একটি চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজিরহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, রোববার রাত ১০টার দিকে রংপুর নগরীর হাজিরহাট এলাকায় ইমরুল কায়েস মামুনের বাড়িতে কাফনের কাপড় পাঠানোর খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে কাফনের কাপড় ও একটি চিঠি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস মামুন নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাটিকে শুধু ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। চিঠির বিষয়বস্তু, কাফনের কাপড় পাঠানোর পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “কে বা কারা কাফনের কাপড় ও চিঠি পাঠিয়েছে, তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
উল্লেখ্য, গুম ও শতাধিক মানুষ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করেছেন। গত বছরের আগস্টের মাঝামাঝি রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।



