হাসিনাকে নিয়ে কঠিন চক্রান্তের বেড়াজাল বুনছে ভারত: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, সাংবিধানিক সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়ন—কোনোটিই এককভাবে টেকসই গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে পারবে না। রাজনৈতিক নেতাদের মানসিকতা ও মনস্তত্ত্বে মৌলিক পরিবর্তন না এলে সবকিছু আবার স্বৈরতন্ত্রের দিকে ফিরে যেতে পারে।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বুটাব) যৌথভাবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোর্শেদ হাসান খান। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিনসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

রিজভী বলেন, ‘জুলাই চার্টারের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা যায়, নতুন আইন করা যায়, রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের মানসিকতা ও মনস্তত্ত্বের পরিবর্তন না হলে সবকিছু আবার স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যেতে পারে।’

রাজনৈতিক ভণ্ডামির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার জন্য তীব্র আন্দোলন করেছিলেন। অথচ পরে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের সুপারিশ উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সেই ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজনৈতিক ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। জামায়াতে আমিরের বাসায় আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে মুক্তিযুদ্ধ, ৭ মার্চের ভাষণ ও জুলাই অভ্যুত্থানের ছবি থাকলেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি বা উল্লেখ ছিল না। বিষয়টিকে তিনি ‘গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন।

ভারতের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘তারা একজন পলাতক ফ্যাসিস্ট ব্যক্তিকে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি উদ্যোগ—তিস্তা ব্যারেজ মাস্টারপ্ল্যান, চীন সফর এবং প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর—এসবের জবাবে কি ‘হাসিনা কার্ড’ খেলা হচ্ছে?

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের প্রবর্তন, খাল খনন অভিযান এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অবহেলার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা কৃত্রিম সংকট ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে সরকারের নির্বিঘ্ন শাসন ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভারতের ভূমিকা নিয়ে রিজভী আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংগঠনের একটি কর্মসূচিতে পলাতক ফ্যাসিস্ট বক্তব্য রেখেছেন। আমরা এর প্রতিবাদ করেছি, সরকারও করেছে। কিন্তু ভারত সরকার বলেছে, এখানে তাদের করার কিছু নেই।’

তিনি প্রশ্ন করেন, সরকারের অনুমতি ছাড়া কীভাবে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে? অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার আইনি মামলা পরিচালনার জন্য লর্ড টাঙ্গাইল লন্ডন থেকে বাংলাদেশে এলে শেখ হাসিনা তাকে প্রবেশ করতে দেননি বলেও উল্লেখ করেন রিজভী। এমনকি দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলেও তাকে তা করতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘তাহলে আজকে এটা কেন করলেন? হয়তো হতে পারে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা, সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোরের কথা বলছেন; সেই কারণেই কি হাসিনা কার্ড খেলা হচ্ছে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, হাসিনাকে নিয়ে কঠিন চক্রান্তের বেড়াজাল বুনছে ভারত।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments