সিলেট বিভাগে বাড়তে শুরু করেছে সংক্রামক রোগ হাম। শিশুদের পাশাপাশি তরুণরাও আক্রান্ত হচ্ছেন । সরকারি হিসেব অনুযায়ী গত রবিবার পর্যন্ত হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০ জন। একই সঙ্গে নমুনা পরীক্ষায় আরও চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, বর্তমানে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬ জন, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে দুজন এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন চিকিৎসাধীন।
তিনি জানান, নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট, বাহুবল ও মাধবপুর উপজেলায় তিনজন এবং সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় একজন রয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ২৪ জনে।
এদিকে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে বিশেষ আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়। বৃহ¯পতিবার (২৬ মার্চ) চালু হওয়া এ কেন্দ্রে বর্তমানে ১৬ জন চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৪ জন শিশু এবং দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের সবার নমুনা ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
অন্যদিকে সিলেটে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ার কারণে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আওতায় পৃথক আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ৪ নম্বর ইউনিটকে ডেডিকেটেড করা হয়। সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, পরিস্থিতি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আলাদা আইসোলেশনে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। সিলেট নগর, জেলা ও বিভাগের রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে দেড় বছরের শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি মদিনা মার্কেট এলাকার সাব্বির আহমদ জানান, তাঁর দেড় বছরের বাচ্চা আমায়রার জ্বর-কাঁশি-ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হন ওসমানী হাসপাতালে। পরবর্তীতে তাঁকে বলা হয়, বাচ্চার হাম হয়েছে। ৯ মাস বয়সে তিনি হামের প্রথম টিকা দিয়েছেন। ১৫ মাসের টিকা এখনও দেওয়া হয়নি।
সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মিজানুর রহমান জানান, এখানে গত ৩ দিনে ৩০ জন ভর্তি ছিলেন। এরমধ্যে ১৪ জন বাড়ি ফিরেছেন। তবে রবিবার নতুন করে ৩ জন ভর্তি হন। রোগীদের মধ্যে নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতাও আছে। এখানে ভর্তিকৃতদের মধ্যে ২০ ও ২২ বছরের ভাইবোন দুইজন রয়েছেন। আর বাকিরা শিশু। তবে এদের মধ্যে ১ টা শিশুর হার্টে ও আরেকটার কিডনীতে সমস্যা আছে। যার কারণে তাদের অবস্থা ক্রিটিকাল।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, যেহেতু এটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই প্রথমদিকে ওসমানীতে আলাদা আইসোলেশন করে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পওে রোগীর চাপ বাড়লে ২৬ মার্চ শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে আইসোলেশন কেন্দ্র করা হয়।


