কারাবন্দি ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন তার পরিবার ও স্বজনরা। তারা অভিযোগ করেছেন, কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে গ্রেফতার করে ২২ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ এনে একের পর এক মামলায় জড়ানো হয়েছে। ওইসব মামলার মধ্যে একটি মামলায় বিগত সময়ে আদালত ৮ বছরের জেল দিয়ে তাকে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেলিম প্রধানের বোন স্মৃতি প্রধান, যিনি তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন।
স্মৃতি প্রধান বলেন, আমার ভাইকে বারবার ‘মিথ্যা মামলা’য় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হচ্ছে। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ছোটবেলা থেকে জাপানে বেড়ে ওঠা সেলিম প্রধান দেশে ফিরে রূপগঞ্জ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেন। জাপানের মতো করে নিজ এলাকাকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে নানা বাধা দেয়, বলেন তিনি।
স্মৃতি প্রধান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সেলিম প্রধানকে মিথ্যা মামলায় আটক করে চার বছরের বেশি সময় কারাগারে রাখা হয় এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। তখন তাকে বিএনপিকে আর্থিক সহযোগিতা করার অভিযোগে ফাঁসানো হয়। এখন আবার নতুন করে তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা মামলায় জেলবন্দি রাখা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, চব্বিশের জুলাই আগস্টের পক্ষে কাজ করা সেলিম প্রধানকে গত বছর বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। সে মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর একাধিকবার জেলগেট থেকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তিনি মামলাতে অন্তর্ভুক্ত আসামি না হয়েও অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন।
এসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে সেলিম প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান স্মৃতি প্রধান। বলেন, আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, সেলিম প্রধানের বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমাদেরকে এই অন্যায় ও হয়রানির হাত থেকে মুক্ত করুন এবং সেলিম প্রধানকে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী কারা তাদের চিহ্নিত করুন।
উল্লেখ্য, সেলিম প্রধানকে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করে র্যাব-১। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ৩ টি মামলার মধ্যে দুদকের মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলায় আদালত ৮ বছরের কারাদন্ড দেয়।


