বগুড়া শহরের ভয়াবহ যানজট নিরসনে ঢাকা শহরের মত বগুড়ায় সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শুধু পুলিশ নয়,অন্য সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে (জেলা প্রশাসন,পৌরসভা,বিআরটিএ) কমিটির মাধ্যমে এক যোগে কাজ করতে হবে। আধুনিক শহর স্থাপনে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যানবাহনের চাপ কমাতে শহরের লিংক রোড বের করতে হবে মনে করেন বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা। তিনি মনে করেন,শুধু অটোকিশা,ইজিবাইক যাজটের অন্যতম কারণ তা নয়। শহরের রাস্তা গুলো প্রশস্থ নয়, বড় বড় শপিং মলসহ মার্কেটগুলোতে কোন পার্কি ব্যবস্থা না থাকায় যানজট হচ্ছে। জনগণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়া এবং আইন না মানার প্রবনতা। পাশাপাশি মানুষের মধ্য ট্রাফিক সিষ্টেম সম্পর্কে কোন ধারনা না থাকায় এই অবস্থা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার এক ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ বগুড়া জেলাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮২১ সালে বৃটিশ শাসনামলে। প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্যের রাজধানী। পুন্ড্রবর্ধনই হচ্ছে বগুড়া জেলা যা বর্তমানে মহাস্থান নামে পরিচিত। বর্তমান যুগে উন্নত রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন এনেছে। কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও পড়া লেখার সুযোগের কথা চিন্তা করে মানুষ অনেক পূর্ব থেকেই শহরমূখী হয়েছে। শহরের বৈশিষ্ট হলো অল্পস্থানে বেশী মানুষ বসবাস করা। ১৮৬৪ সালে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোর পৌরসভা তৈরী হয়। বগুড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৮৭৬ সালে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের বৃহৎ পৌরসভা যার আয়তন ৭০ বর্গ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে বগুড়া পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বগুড়া শহর এলাকায় নিয়মিতভাবে ২০ হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা, ১০ হাজার অটোরিকশা ও ৩০ হাজার সিএনজি (থ্রি হুইলার) চলাচল করে। এছাড়া প্রায় ৪৭০ টি লোকাল বাস ১৭০ টি দূর পাল্লার বাস ৫০০ টি ট্রাক প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী নিয়ে বগুড়া শহরের মালামাল পরিবহণ করে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ছোট যানবাহন বগুড়া শহরের অলিগলিতে চলাচল করে। এ পরিবহণগুলো চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ও থামার জন্য নির্দিষ্ট টার্মিনালের প্রয়োজন থাকলেও শহরে তা পর্যাপ্ত নয়। অসংখ্য লোক জেলার বাহির থেকে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে পৌর এলাকায় আসে আবার পৌর এলাকা হতে অসংখ্য লোক বাহিরে যায়। শহরের ফুটপাতগুলো দখল করে থাকে হকাররা। তাদেও সরিয়ে দিলেও তারা পুণরায় বসছে।
পুলিশ সুপার বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন যানজট কমাতে। সেগুলোর মধ্যে বগুড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগন্যাল থাকা, রোড মার্কিং করা, শহরের অধিকাংশ স্থানে বৈধ পার্কিং ব্যবস্থা নাই। রাস্তার পাশে ও মার্কেটের সামনে নির্দিষ্ট মার্কিং করে পার্র্র্কিং ব্যবস্থা করে দেওয়া যেতে পারে। এতে সড়কে শৃংখলা আসবে। প্রয়োজনে পৌরসভার মাধ্যমে ইজারা দিয়ে পার্র্কিং চার্জ নিয়ে পার্কিং করা যেতে পারে। কোথায় পার্কিং হবে এবং কোথায় পার্কিং হবেনা তা পার্কিং সাইন বোর্ড দিয়ে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
বগুড়া শহরে কোথাও টাউন সার্ভিস নাই। ২২ সিটের বা ৩২ সিটের ছোট কোস্টার বাসগুলোর সিট চক্রাকারে থাকবে যাতে করে বাসে সহজে উঠা ও দ্রুত নামা যায়। অফিসের সময় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকার সময় রাস্তায় অধিক চাপ থাকে। যাত্রী সাধারণের জন্য স্বল্প মুল্যে ও কম সময়ের জন্য এধরনের ছোট আকারে কোস্টার বাস সাধারণ যাত্রীদের জন্য যথেষ্ট উপকার হবে বলে মনে হয়। শহরের রাস্তা ও মোড়ে সিসি ক্যামেরা ও মনিটরিং ব্যবস্থা থাকলে যানজট নিয়ন্ত্রণসহ সড়কে শৃংঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। সিসি ক্যামেরা পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও পৌরসভার কন্ট্রোল রুমের সাথে সংযোগ থাকতে পারে। এতে করে ট্রাফিক পুলিশের ডিউটি ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ডিউটি মনিটরিং করা সম্ভব। সিসি ক্যামেরা থাকলে চুরি ছিনতাই প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়কে হকার বসে। বিশেষ করে সাতমাথা ও আশপাশ এলাকায়, স্টেশন রোড, কাঠালতলা, কোর্ট চত্ত্বর, রাজাবাজার, খোকন পার্কের সামনে, চেলোপাড়ায় হকার বসে পড়ে। তারা সড়ক ও ফুটপাতে যান ও জন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
তাই এসব সমস্যা দূর করতে হলে পার্কিং এর ব্যবস্থা, ফুটপাত, হকারদের পুনর্বাসনসহ পৌরসভা কর্তৃক আইন করে রিকশা, অটো ও সিএনজি শহরের মধ্যে চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বাস, ট্রাক, মিনিবাস, সিএনজি, অটোরিক্সার জন্য আলাদা আলাদা পার্কিং এর ব্যবস্থা , শহরের ভিতর রেললাইনের উপর অভারপাস করতে হবে।



