নিরাপদ সড়কের দাবিসহ পাঁচ দাবিতে রাজধানীর ফার্মগেটে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে এই সড়কে যানবাহন চলাচল। জানা গেছে, দুইদিন আগে ফার্মগেট এলাকায় ট্রাকচাপায় সিফাত নামের এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান ।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করেছে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি।
সিফাত নামে এক যুবকের নিহতের বিষয়ে ডিসি বলেন, ট্রাকচাপায় ফার্মগেট এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সিফাত নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা আসামিদের গ্রেফতারে কাজ করছি।
পাঁচ দফা দাবি : এ সময় শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন, দাবিগুলো হলো- সিফাত হত্যার বিচার করতে হবে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী ট্যাগ দেওয়ায় প্রশাসনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ফুটপাত থেকে সকল অবৈধ দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা, অননুমোদিত বাজার ও ভবঘুরে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে হবে। নো পার্কিং জোন কঠোরভাবে ঘোষণা করতে হবে। দুর্ঘটনা এবং যানজট এড়াতে রেল-ক্রসিং থেকে গির্জা পর্যন্ত এই রোডে অটোরিকশা, ট্রাকসহ ভারী যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সন্নিকটে তিনটি স্পিডব্রেকার, সড়কে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট, লেন ডিভাইডার এবং ট্রাফিক আইল্যান্ড স্থাপন করতে হবে।
মহাখালীতে পরিবহন শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ : মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের বিরোধের জেরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় ২ ঘণ্টা পর এই অবরোধ প্রত্যাহার করায় যান চলাচাল স্বাভাবিক হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনায় মহাখালী, বনানী ও তেজগাঁও এলাকায় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন সাধারণ যাত্রীরা। অবরোধ প্রত্যাহারের পর যান চলাচল ধীরগতি থাকলেও তা স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাস্তায় গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
চোখে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মহাখালী রেলগেট থেকে নাবিস্কো পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে শ্রমিকরা তাদের বাস ও কোচ দুই পাশে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এতে ওই এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধ চলায় আশপাশের সড়কগুলোতেও দীর্ঘ যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। এসময় অফিসগামী লোকজন, স্কুলের শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েন। অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।



