সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার স্বামী শফিক আহমেদ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৬৫ লাখ ৪১ হাজার ৬০ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান, দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। শিগগিরই দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করবেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ড. শফিক আহমেদের নামে ১৫ কোটি ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ২৯০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া যায় দুই কোটি ৬৫ লাখ ৩ হাজার ৩৫২ টাকা। সবমিলিয়ে তার অর্জিত ও ব্যয়ের হিসাব দাঁড়ায় ১৭ কোটি ৯৭ লাখ ৯১ হাজার ৬৪২ টাকা। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে তার বৈধ আয় পাওয়া যায় ৯ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার ৫৮২ টাকা। ফলে, ৮ কোটি ৬৫ লাখ ৪১ হাজার ৬০ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে বলে অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদক আরো জানায়, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে এই সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুদক আইনে তার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সাবেক এমপি আশেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা :
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী কুতুবদিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, আশেক উল্লাহর নামে মোট ৬.২৭ কোটি টাকার সম্পদ, যার মধ্যে বৈধ উৎস পাওয়া গেছে ২.৩৪ কোটি টাকা। ফলে ৩.৯২ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত হয়। এ ছাড়া ১৪টি ব্যাংক হিসাবে তার মোট লেনদেন হয়েছে ৭৫.৪৬ কোটি টাকা, যা দুদকের মতে অত্যন্ত সন্দেহজনক। একই সঙ্গে সাবেক এমপির স্ত্রী সাহেদা নাসরীনের নামে ৫৭.৫২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় দুদক তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেয়া হয়েছে।



