রাঙামাটিতে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলে ও ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড

রাঙামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে শ্যান্তি লাল চাকমাকে গলা কেটে হত্যার মামলায় তার ছেলে সোহেল চাকমা ও ভাতিজা আলোময় চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, নিহত শ্যান্তি লাল চাকমার আপন ছেলে ও ভাতিজা নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন, যা সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক থানার ভাইবোনছড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ওই দিন রাতের খাবার শেষে শ্যান্তি লাল চাকমাকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান আসামিরা। পরে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হত্যার পর লাশ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার আট দিন পর বাঘাইছড়ির কাচালং নদী থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া নিহতের ছেলে সোহেল চাকমা ও ভাতিজা আলোময় চাকমা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে সোহেল চাকমা ও আলোময় চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

আলোময় চাকমা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালতে উপস্থিত সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, এমন পশুবৃত্তিসুলভ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য চরম হুমকি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাশেদ ইকবাল বলেন, মামলাটি শেষ পর্যায়ে তার হাতে এসেছে। মূল আসামি ভাতিজা আলোময় চাকমা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পরে পলাতক রয়েছেন। তার দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে নিহতের ছেলে সোহেল চাকমার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আদালত দুই আসামিকে ফাঁসির সাজা দিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments