বাউল ফকিরদের নিয়ে খুব শিগগিরই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থান নেব। সেখানে গান আর কথায় বাউলদের নিয়ে সব বিভ্রান্তি দূর করব এমন মন্তব্য করে কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি দোষীদের আড়াল করে রাখার চেষ্টা করে, তবে জনগণ ব্যালটেই জবাব দেবে।
গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানিকগঞ্জে বাউল সাধকদের ওপর হামলার ঘটনায় সাধুগুরুভক্ত ও ওলি-আওলিয়া আশেকান পরিষদ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে বাউল সাধকদের পক্ষে কবি ফরহাদ মজহার, মোহাম্মদ রোমেল, আবুল কাশেম, আলেয়া বেগম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো – বয়াতি ও পালাকার আবুল সরকারের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি; মানিকগঞ্জে তার ভক্তদের ওপর হামলাকারীদের দ্রæত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা; সামাজিক নৈরাজ্য প্রতিরোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ; বিভিন্ন মাজারে হামলার ঘটনা প্রতিরোধ করা।
মানিকগঞ্জে বাউলদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় ওই জেলা শহরেও বাউল-ফকিরদের সমাবেশের আয়োজন করার কথা বলেন ফরহাদ মজহার।
বাউল সাধকদের একজোট থাকার আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে অন্তর্বর্তী সরকার অঙ্গীকার করেছিল, তারা ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। কিন্তু এ সরকারের আমলে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি লুটেরা-মাফিয়া গোষ্ঠী নির্বাচনের আগে প্রশাসনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। তারা দম্ভ প্রকাশ করছে। এ গোষ্ঠী এখন মাজারে হামলা করছে, বাউলদের মারপিট করছে। এ গোষ্ঠী ইহুদিদের চর, মোসাদের চর। তারা দেশ থেকে ইসলামের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলতে চায়। তারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মর্যাদাহানি করছেন।
বাউল আবুল সরকার পালাগান পরিবেশনায় নাটকীয়তার মাধ্যমে ধর্মের নানা তত্তে¡র ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন উল্লেখ করে ফরহাদ মজহার বলেন, আবুল সরকার কোনো ভুল করেননি। প্রশাসনে যারা কর্তব্যরত রয়েছেন, তাদেরই ব্যর্থতা যে তাদের সাংস্কৃতিক শিক্ষা নিচু স্তরের।
আবুল সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সমাবেশে আগত বাউল অনুসারীরা বলেন, কিছু শিক্ষাহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন মহল আবুল সরকারের পালার একটি অংশকে বিচ্ছিন্নভাবে সামনে এনে তাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি সুফি ধারার শিল্পী, এই ধারায় সাপ্তিকতার কোনো স্থান নেই, বরং আল্লাহ ও রাসূলের প্রশংসা ও প্রেমগাঁথাই তাদের প্রধান বিষয়বস্তু। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ স্পষ্টতই ভিত্তিহীন এবং অসৎ উদ্দেশ্যমূলক।
বাউল, ফকিরদের আশঙ্কা- একটি গোষ্ঠী এই ঘটনাকে ইন্ধন হিসেবে ব্যবহার করে সমাজে নৈরাজ্য ও সা¤প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইছে।



