বাজার স্থিতিশীল রাখতে ফের ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার একদিনে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২ মিলিয়ন বা ২০ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। প্রতি ডলার কেনা হয়েছে ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা দরে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ২৫১৪ মিলিয়ন বা ২৫১ কোটি ৪০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা উদ্বৃত্ত ডলার কিনে রিজার্ভে যোগ করছে, যাতে ডলারের মূল্য কমে না যায় এবং বাজারে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়।
ব্যাংকাররা জানান, আমদানি চাহিদা কমে আসায় বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা কমেছে। দেশে নতুন বিনিয়োগ স্থবির। ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগ করছেন না। এতে আমদানি, বিশেষ করে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি চাহিদা কমে গেছে। তাছাড়া গেল মাসের শেষ দিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এতে ব্যাংকগুলোতে চাহিদার তুলনায় ডলারের যোগান বেশি দেখা দিয়েছে।
ব্যাংকাররা জানান, ডিসেম্বরের প্রথম ১০ দিনে ডলারের চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও মাঝামাঝি সময়ে পেমেন্টের চাপ বাড়তে পারে, তখন ডলারের চাহিদা বেড়ে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মানদ ব্যালান্স অব পেমেন্টস ম্যানুয়াল-৬ বা বিওপিএম-৬ অনুসারে হিসাব করলে রিজার্ভ থাকে ২৬ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলার কেনার এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাজারে তারল্য ও মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা দৃঢ় হবে। তবে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও আমদানি প্রবণতার ওপরও নজর রাখতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। বাজারের উপর দাম ছেড়ে দেওয়ার পর যদি ডলারের দাম কমে যায়, তাহলে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি এবং রপ্তানি আয়ও কমে যেতে পারে। এজন্য ডলার কিনে দাম স্থির রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাজারে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে তখন বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রæত এর সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করে। গত বছর ৮৫ টাকার ডলার ১২০ টাকায় উঠে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রæত ডলার বিক্রি শুরু করে।



